ঢাকাMonday , 1 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জর্জিয়ার স্বপ্নযাত্রা থামাল দুর্দান্ত স্পেন

Link Copied!

স্পেনের ক্ষুরধার আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ম্যাচে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি জর্জিয়া।
পর্তুগালকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর জর্জিয়া কোচ উইলি স্যানিওল বলেছিলেন, শেষ ষোলোয় উঠতে পেরেই অনেক খুশি। তবে স্পেনকে ভয় পেয়ে খেলবে না তার শিষ্যরা। মাঠের খেলায় তা করেও দেখালেন জর্জিয়ার ফুটবলাররা। তবে বদলে যাওয়া স্পেনের ক্রমাগত ক্ষুরধার আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত হলো তাদের হৃদয়।
কোলনে রবিবার দিবাগত রাতে জর্জিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ সব সেইভ করে দলকে শেষ ষোলোয় নিয়ে এসেছিলেন জর্জিয়ার তরুণ গোলরক্ষক জর্জি মামারডিশভিলি। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে ২৭টি সেইভ করে ফুটবলপাড়ায় আলোচনার জন্ম দেন ২৩ বছর বয়সী ভ্যালেন্সিয়ার এই গোলরক্ষক। দুর্দান্ত স্পেনের বিপক্ষেও বারংবার দেখালেন সেই অসামান্য প্রতিভা। তবে একক প্রচেষ্টায় ঠিক পেরে উঠলেন না তিনি। স্পেনের ৯টি প্রচেষ্টা তার কাছে বাধা পেলেও চারবার ব্যর্থ হন মামারডিশভিলি।
অপরদিকে, শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজাতে থাকা স্পেন আত্মঘাতী গোল খেয়েও সেদিকে দৃকপাত না করে নিজেদের কাজের ধারা অব্যহত রাখল। আর তাতেই থেমে গেল ইউরোর ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলো খেলতে আসা জর্জিয়ার স্বপ্নযাত্রা।
ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পর আক্রমণ করতে থাকা স্পেন প্রতিপক্ষের গোলে ৩৫টি শট নেয়, যার ১৩টি ছিল লক্ষ্যে। অপরদিকে, দুই অর্ধে দুটি করে মোট চারটি শট নিয়ে তার একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কিভিচা কেভারাটসখেলিয়ারা।
হারের পর সমর্থকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্বপ্নযাত্রার ইতি টানেন জর্জিয়ার ফুটবলাররা।
ম্যাচের শুরু থেকেই জর্জিয়াকে চেপে ধরে স্পেন। প্রথম মিনিটে গোলের সুযোগও তৈরি করে তারা। তবে বক্সের মধ্যে থেকে বল ক্লিয়ার হয়ে যায়। এরপর পঞ্চম মিনিটের শুরুতে প্রথম গোলে শট নেয় স্পেন। সতীর্থের বক্সের মধ্যে বাড়ানো বল নাগালের কিছুটা বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। তবে পা প্রসারিত বল গোলে ঢোকানোর চেষ্টা করেন পেদ্রি। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে শুরুতেই দলকে পিছিয়ে পড়া থেকে বাাঁচান মামারডিশভিলি।
দশম মিনিটে কর্নার থেকে আসা স্পেনের ক্রস সরাসরি গোলে ঢুকে যাচ্ছিল। তবে এবার আরও ভালো সেইভ করেন মামারডিশভিলি।
শুরুর ১৫ মিনিটে ৮৮ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ শানায় স্পেন। আক্রমণের এই ধারা এরপরও তারা অব্যহত রাখে।
তবে এরপরই সবাইকে অবাক করে দিয়ে গোল পেয়ে যায় জর্জিয়া। স্প্যানিশ ফুটবলারদের ভুল পাস ধরে ক্ষিপ্র গতিতে পাল্টা আক্রমণে যান নাপোলি স্ট্রাইকার কেভারাটসখেলিয়া। তার বক্সে বাড়ানো ক্রসে এতটাই গতি ছিল যে, ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল ঢুকিয়ে ফেলেন রবিন লে নরমান্দ। ফলে ম্যাচের অষ্টাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় জর্জিয়া।
দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে আত্মঘাতী গোল আদায় করে ম্যাচের শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন কিভিচা কেভারাটসখেলিয়া। ছবি: এপি
গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেলে জর্জিয়া খেলায় ফেরার চেষ্টা করে। তবে আবারও বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। ২২তম মিনিটে স্পেনের আরও একটি ভালো শট ঠেকিয়ে দেন মামারডিশভিলি। ২৭তম মিনিটে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নেওয়া পেদ্রির শট পোস্টের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুই মিনিট পর আয়মেরিক লাপোর্তের দূরের শট পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
পরের মিনিটেই আরও একটি ভালো পাল্টা আক্রমণে যায় জর্জিয়া। তবে এবার স্প্যানিশ ডিফেন্সে তাদের আক্রমণটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরের মিনিটে আরও একবার প্রতি-আক্রমণে উঠলে ডি বক্সের মধ্যে কেভারাকে নিষ্ক্রিয় করেন লে নরমান্দ। ৩৪তম মিনিটে কেভারার আরও একটি আক্রমণ স্পেনের বক্সের মধ্যে থেকে নিষ্ক্রিয় হয়।
৩৫তম মিনিটে মার্ক কুকুরেইয়ার নিচু শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন মামারডিশভিলি। ৩৮তম মিনিটে জর্জিয়ার সমর্থকদের বুক কাঁপিয়ে দিয়ে বাঁ দিক দিয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে দারুণ শট নেন নিকো উইলিয়ামসন। তবে শটটি ঠেকিয়ে দিলেও কয়েক মুহূর্ত পরের আক্রমণে আর পেরে ওঠেননি মামারডিশভিলি।
৩৯তম মিনিটে ডি বক্সের মাঝামাঝি সামান্য বাইরে থেকে রদ্রির চিরচেনা বুলেট শট খুঁজে নেয় ঠিকানা। ফলে বিরতির আগেই সমতায় ফেরে স্পেন। এরপর স্পেন আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। তাই স্কোরবোর্ডে সমতা রেখেই বিরতিতে যায় দুই দল।
প্রথমার্ধে ৭৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে মোট ১৭টি শট নেয় স্পেন, যার ৬টি ছিল লক্ষ্যে। অপরদিকে, দুটি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হয় জর্জিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ সেকেন্ডেই আক্রমণে যায় স্পেন। তবে ফাবিয়ান রুইসের শটটি পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৪৮তম মিনিটে স্পেনের আরও একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল পেয়েই গিয়েছিল জর্জিয়া।
স্পেনের ভুল পাস ধরে হঠাৎ করে এগিয়ে যান কেভারা। এদিকে সতীর্থরা প্রতিপক্ষকে কোণঠাঁসা করে রাখায় অলস সময় কাটানো স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোন ডি বক্স ছেড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে এসেছিলেন। এসময় বল ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে মাঝমাঠ থেকেই উড়িয়ে মেরে দেন কেভারা। তবে বল সামান্যের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৫১তম মিনিটে ডি বক্সের মাঝামাঝি সামান্য বাইরে ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক বাঁকানো শট নেন লামিন ইয়ামাল। মামারডিশভিলি সেটি ফিরিয়ে দিলে ফের ডান পাশে বল পেয়ে যান ১৬ বছর বয়সী বার্সেলোনা উইঙ্গার। এরপর ঠান্ডা মাথায় দূরের পোস্টের দিকে এগোনো ফাবিয়ান রুইসের মাথার ওপর ক্রস দেন তিনি। গোলপোস্টের কয়েক মিটার সামনে থেকে অনায়াসেই বল জালে জড়ান রুইস। ফলে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় স্পেন।
দলকে প্রথমবার এগিয়ে নিয়ে ফাবিয়ান রুইসের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
পরের মিনিটে লামিনের আরও একটি শট ঠেকিয়ে দেন মামারডিশভিলি। এরপর ৫৫তম মিনিটে আলভারো মোরাতার শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
এর মধ্যে পেদ্রিকে উঠিয়ে লাইপসিগের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দানি অলমোকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ৬৩ তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের ভুল পাস ধরে ফেলেন লামিন, কিন্তু শটটি ঠিকঠাক না বাঁকানোয় গোলবঞ্চিত হন তিনি।
দীর্ঘক্ষণ পর ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে আরও একবার আক্রমণে যায় জর্জিয়া। তবে শটটি পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে গেলে হতাশ হয় সাদা জার্সিধারীদের সমর্থকরা।
৭৩তম মিনিটে দারুণ ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে করতে বক্সে ঢুকে ছয় গজ বক্সের মধ্যে ঢুকে, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ে জোরালো পাস দিয়ে দারুণ এক আত্মঘাতী গোল আদায় করেন লামিন। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
কিন্তু তার পরের মিনিটে নিকো উইলিয়ামসকে আর থামাতে পারেননি জর্জিয়ান ডিফেন্ডাররা। জর্জিয়া এসময় আক্রমণে গেলে নিজেদের বক্সের ভেতর থেকে বল কেড়ে নেয় স্পেন। এরপর উইলিয়ামসের পায়ে বল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্দান্ত গতিতে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে তৃতীয় গোলটি করে কোয়ার্টার ফাইনাল একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলেন তিনি। পরের মিনিটে উইলিয়ামসের আরও একটি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মামারডিশভিলি।
দুর্দান্ত এক গোল করে লামিনের সঙ্গে নাচছেন নিকো উইলিয়ামস। ছবি: সংগৃহীত
৮০তম মিনিটে লামিনকে ফের গোলবঞ্চিত করেন অসাধারণ মামারডিশভিলি। ডান দিকে দিয়ে ছয় গজ বক্সে ঢূকে সতীর্থের পাস ধরেই শট নেন লামিন। তবে শরীর দিয়ে তা ঠেকিয়ে ইয়ামালের ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার অপেক্ষা আরও বাড়ান ভ্যালেন্সিয়ার তরুণ গোলরক্ষক।
তবে ৮৩তম মিনিটে অলমোর পোস্টঘেঁষা শটে বোকা বনে যান মামারডিশভিলি। স্পেন ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার এই গোলে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না তার।
এসময় বিধ্বস্ত জর্জিয়ার দুঃখে অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকে আকাশ। তবে বৃষ্টির মাঝেও চলতে থাকে স্পেনের ধারালো আক্রমণের হলকা। শেষ মিনিটে উইলিয়ামসের শট রক্ষেণে প্রতিহত হয়। এরপর অলমোর শট ঠেকান মামারডিশভিলি। যোগ করা অতিরিক্ত তিন মিনিটেও আক্রমণত্মক ফুটবলে জর্জিয়াকে তটস্থ করে রাখে স্পেন। তবে আর জালের দেখা না পাওয়ায় ৪-১ গোলের ব্যবধানেই কোয়ার্টারের পথ ধরেন দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
শেষ আটে শুক্রবার রাত ১০টায় দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্বাগতিক জার্মানির মুখোমুখি হবে স্পেনের ব্যান্ড অব ব্রাদার্স।