জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদ্য সাবেক সদস্য মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আগামী ৩০ দিনের জন্য মতিউরসহ তার স্ত্রী-সন্তানদের আটটি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউর রহমানের অর্থ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের কাছে তার ব্যক্তিগত নথি ও চাকরি জীবনে উত্তোলিত বেতন-ভাতার বিবরণ, অফিসিয়াল লোন গ্রহণ বা পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য ও তার স্ত্রী, পুত্রের নামে ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত কোনো অনুমোদনের রেকর্ডপত্র চেয়েছে দুদক।
ছাগলকাণ্ডের পর থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে মতিউর রহমানের দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পত্তির তথ্য। এ কারণে এনবিআরের কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয় মতিউরকে। সোমবার সোনালী ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে।
এদিকে বিএফআইইউর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গতকাল বিএফআইইউ থেকে ব্যাংক ও বিও হিসাব স্থগিত সংক্রান্ত একটি চিঠি পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। যাদের ব্যাংক ও বিও হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন, মতিউর রহমান, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ, প্রথম স্ত্রীর মেয়ে ফারজানা রহমান ইপসিতা, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আহাম্মেদ তৌফিকুর রহমান, দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলী, দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে ইফতিমা রহমান মাধুরী, দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে ইরফানুর রহমান ইরফান। আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি তথ্য সরবরাহের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগ থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

