বৃহস্পতিবার ( ১৬ মে ) বেলা আনুমানিক আড়াই ঘটিকায় মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৪ এ কর্মরত ট্রেড লাইসেন্স শাখার সুপারভাইজার মাহমুদুল হাসান রোকনের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সহ সভাপতি এবং দৈনিক পাঞ্জেরী’র স্পেশাল করসপন্ডেট ওসমান গণি বাবুলের উপর হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।এ সময় পথচারিরা এগিয়ে এলে দুর্বত্তরা স্থান ত্যাগ করে অফিসে ঢুকে পড়ে। আহত সাংবাদিক ওসমান গণি বাবুল দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।এদিকে হামলার বিষয়টি জানাজানি হলে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃস্টি হয়। বিভিন্ন মহলে নিন্দা ঝড় ওঠে।অসংখ্য সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।সূত্র জানায়, ট্রেড লাইসেন্স শাখায় কর্মরত সুপারভাইজার মাহমুদুল হাসান রোকন তার অন্যতম সহযোগী নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রাজ্জাক শেখ ও সন্ত্রাসী তপু , মোরসালিন (দালাল/টেন্ডুল), আকাশ এবং নান্নুসহ ১০/১২ জন মিলে সাংবাদিক ওসমান গণি বাবুলের উপর হামলা চালায়।অভিযোগ রয়েছে, ট্রেড লাইসেন্স শাখার সুপারভাইজার মাহমুদুল হাসান রোকনের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতরা নাগরিকদের জিম্মী করে সরকারি রাজস্বের বাইরে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে সাংবাদিক ওসমান গণি বাবুলের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় দুর্বত্তরা। সূত্র জানায়, ট্রেড লাইসেন্স শাখায় অতিরিক্ত উৎকোচ ব্যতিত কোন লাইসেন্স নবায়ন হয় না এবং নতুন লাইসেন্স করতে গেলে উৎকোচ না দিলে লাইসেন্স পেতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর নেতৃত্ব দেন ট্রেড লাইসেন্স সুপারভাইজার মাহমুদুল হাসান রোকন। এ জন্য তিনি নিজস্ব একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। ফলে নিরবে নিভৃতে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে।সাংবাদিক ওসমান গণি বাবুলের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।এছাড়া দৈনিক পাঞ্জেরী পরিবারের পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।হামলার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলমকে জানানো হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের (অঞ্চল-৪)আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) কামরুজ্জামানকে হামলার ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, মাহমুদুল হাসান রোকন প্রভাব বিস্তার করে নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রাজ্জাক শেখ রোড ইন্সপেক্টরের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে।ফলশ্রুতিতে সড়ক কাটিংয়ের ক্ষেত্রে নানাজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত উৎকোচ আদায় করছেন নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রাজ্জাক শেখ।অল্পদিনেই তিনি আর্থিকভাবে এখন বেশ স্বচ্ছল। চলনে বলনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। ক্ষমতার জোরে তিনি কাউকে পাত্তা দেন না।ভয়ে সবাই তটস্থ।এই নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রাজ্জাক শেখ ইতোমধ্যেই রাজধানীর আশপাশে কয়কখন্ড জমিও ক্রয় করেছেন। সূত্র জানায়, কাউন্দিয়া এবং মুগরাকান্দায় এলাকায় দুটি দামী জমি ক্রয় করেছেন।এসব অভিযোগের ব্যাপারে কয়েকবার তাদের মোবাইল ফোনে যোগােযাগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।

