ঢাকাMonday , 22 April 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিসিকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ! পর্ব-২

Link Copied!

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কর্মী ব্যবস্থাপনা শাখার শাখা প্রধান নাজমুল হোসেন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মী ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ বিষয়ে গতকাল ২০ এপ্রিল দৈনিক পাঞ্জেরীতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে নাজমুল হোসেন এবং আরিফ হোসেনের অপকর্মের একটি খন্ডিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অনুসন্ধানে তাদের দু’জনের অপকর্মের বিশাল লম্বা খতিয়ান মিলেছে। আজ দ্বিতীয় পর্ব তুলে ধরা হলো। সরকারী নির্দেশনার (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সদ্য জারীকৃত পরিপত্রের) প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারি মনোভাব প্রদর্শন, সরকারী দপ্তরে অসন্তোষ সৃষ্টি, বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দ্যেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্যমূলক কাজ, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য হেন চেষ্টা নেই-যা উক্ত দুজন কর্মকর্তা করেননি। বিসিকে কর্মরত অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য, কেননা তারা উক্ত দুজন কর্মকর্তার উস্কানীমূলক আচরণ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এবং ধৈয্যের সাথে মোকাবেলা করে চলেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, বদলী, পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে তাদের নিজস্ব ধ্যান ধারণা চাপিয়ে দিয়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাব খাঁটিয়ে দেদারছে অপকর্ম করে যাচ্ছেন এই দুজন কর্মকর্তা। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আর্থিক লেনদেন না করলে ফাইলের গতি প্রকৃতি পরিবর্তন করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার আবর্তে ফেলে প্রতিটি পর্যায়ে মানসিক অশান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি আর্থিকভবে ক্ষতিগ্রস্থ করে চলেছেন বিসিকে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে। দাপ্তরিক কার্য সম্পাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে করেন বৈষম্যমূলক আচরণ। কর্মী ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তথ্যবহুল তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে একাধিক সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত একটি সংবাদেরও প্রতিবাদ প্রেরণ করা হয়নি। প্রচলিত নিয়মে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবাদ না পাঠালে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন সত্য ও সঠিক বলে প্রমাণিত হওয়ার বিধান আছে। নাজমুল হোসেন গত ৮ ফেব্রুয়ারী নিজ নাম বিকৃত করে অন্যের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে রমনা থানায় ৫৪৭ নম্বর জিডি এন্ট্রি করেছেন তার অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। তাছাড়া বিসিকের বর্তমান চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার ভৌমিকের ঘনিষ্ঠজন বলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১২ মার্চ ১৯২টি পদের ছাড়পত্র চেয়ে যে পত্রটি শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে উক্ত পত্রের অগ্রায়ন পত্র থেকে শুরু করে সংযুক্ত ১০৫ পাতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র অবলোকন করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় সংযুক্ত কাগজ পত্রের প্রতিটিতে তিনজনের ইনিসিয়াল রয়েছে। অগ্রায়ন পত্রের শুরুতে উল্লিখিত বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ-যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বিসিকের রাজস্ব খাতের ৩য়-১৬তম গ্রেডের ৪১(একচল্লিশ) ক্যাটাগরীর ১৯২(বিরানব্বই) টি শুন্য পদ পূরণের ছাড়পত্র প্রদান। যার মধ্যে বিভ্রান্তিকর এবং ভুল রয়েছে অংকে ১৯২ লিখা হলেও বানান লিখা হয়েছে শুধুমাত্র বিরানব্বই। ছাড়পত্র প্রদান বিসিক করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেখানে ছাড়পত্র প্রদানের অনুরোধ অথবা প্রসঙ্গে লিখা থাকা একান্ত আবশ্যক বলে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। তাছাড়া বিষয়ের পরে ১ম প্যারায় উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের লিখে (বিসিক) লিখাটি কোনমতেই সঠিক নয়। দ্বিতীয় লাইনে ৪১ ক্যাটাগরির অংকে ১৯১ লিখে বানান লিখা হয়েছে একশত বিরানব্বইটি পদ শুণ্য রয়েছে। ১ম প্যারার নীচে ছকের ৪নং কলামে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তবিত শুন্যপদে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখ থাকার কথা সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে ছাড়পত্রের জন্য প্রস্তাবিত শুণ্য পদের সংখ্যা।
অগ্রায়ন পত্রের ৩৭নং ক্রমিকে উল্লিখিত ইলেকট্রিশিয়ান পদটি আউটসোর্সিং নীতিমালা-২০১৮ এর বিধানমতে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণযোগ্য হওয়া স্বত্তেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি নিয়োগের কোটায় নিয়োগের ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে, যা সরকারী নির্দেশনা অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। ক্রমিক নং-৩৯ এ উল্লিখিত করণিক তথা মুদ্রাক্ষরিক পদটির পদনাম পরিবর্তন হয়ে অফিস সহকারী কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক করার সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাদের খেয়াল খুশীমতো পদনাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্রায়ন পত্রের ৩য় প্যারায় দেশের শিল্পোয়নে বিসিকের অবদানের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে উল্লেখ থাকার কথা শিল্পায়নে শব্দটির। ৪র্থ প্যারায় ৩য়-১৬ গ্রেডের ৪০(চল্লিশ) ক্যাটাগরি ১৯১ (একশত একানব্বই) টি শুন্যপদের উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে ৪১ ক্যাটাগরীর ১৯২টি পদের অথচ ৪র্থ প্যারায় ৪০ ক্যাটাগরীর ১৯১টি পদের ছাড়পত্রের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বিভ্রান্তিকর এবং সরকারী দায়িত্ব পালনে চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।
অগ্রায়ন পত্রের সাথে সংযুক্ত রাজস্ব খাতের শুণ্য পদ পূরণের তথ্যাবলী সরবরাহের ছক এর ১ হতে ৪১ ক্রমিকের মন্তব্য (বিসিক প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ অনুযায়ী) লিখাটি কোনমতেই সঠিক নয়। বিসিক প্রবিধানমালা, ১৯৮৯ অনুযায়ী লিখাটির উল্লেখ থাকার কথা ক্রমিক নং ১-৪১ এর প্রতিটির মন্তব্যের কলামে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে ক্রমিক নং-১ হতে ৪১ এবং সর্বশেষ মোট এর মন্তব্য কলামে ৪২ বার প্রকৃত শব্দটির বানান পকৃত লিখা হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাংলা বানান ভুল লিখাটি বাংলা ভাষার অবমাননার পর্যায়ে পড়ে।
এতে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ বহন করে প্রস্তাব প্রণয়নকারী আরিফ হোসেন এবং শাখা প্রধান নাজমূল হোসেনের যোগ্যতা, দক্ষতা, আন্তরিকতা, একাগ্রতা এবং পেশাদারসুল্ভ মনোভাবের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সরকারী দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা দেখিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি অবমাননা প্রদর্শন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সংযুক্ত অন্যান্য সংযুক্তি অবলোকন করলে এ ধরনের অসংখ্য অসংগতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।
বিসিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এর পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয় সরকারী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিসিক কর্তৃপক্ষকে যথাযথ জবাবদিহীতার আওতায় আনার বিষয়টিতে নজর দিবেন জাতি এ প্রত্যাশাই করে।