প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত লাইভস্টক ডেইরী এন্ড ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট(এলডিডিপি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা ভেটিরিনারি হাসপাতালের জন্য প্যাকেজ জি-৩৮ তে মোট ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার প্লাষ্টিক, গ্লাস ওয়ার, কেমিকেল এন্ড রি-এজেন্ট, মিডিয়া ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহব্বান করা হয়।
সে প্রেক্ষিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আব্দুল আওয়ালের “বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজ” একই মালিকের আল আরাফা সায়েন্টিফিক নামক প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ গ্রহণ করে এবং সর্বনিম্ন দর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত হয়। সে প্রেক্ষিতে দরপত্রের সাথে জমাকৃত ম্যানুফাকচার অথরাইজেশন সঠিক আছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য এলডিডিপি প্রকল্প হতে সনদপত্র প্রদানকারী “গ্লাস্কো ল্যাব” নামক প্রতিষ্ঠানের নিকট মেইল করে।
উক্ত মেইলের জবাবে মালামাল প্রস্তুতকারী ও অথরাইজেশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান “গ্লাস্কো ল্যাব” গত ৬ ই এপ্রিল ১২.৫৬ ঘটিকার সময় প্রেরিত ফিরতি মেইলে জানান যে, তারা ঐ ২টি প্রতিষ্ঠানকে কোন ক্ষমতাপত্র (মানুফ্যাকচার অথরাইজেশন) প্রদান করেনি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যেটা দাখিল করেছে সেটি ফেক বা জাল।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজের মালিক আব্দুল আওয়াল তার অনৈতিক জাল-জালিয়াতি কাজের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে।
সমাজ সেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পেও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে যন্ত্রপাতি সরবরাহে চায়নার তৈরী মেশিনারীজ যন্ত্রপাতির গায়ে জাল স্টিকার লাগাইয়া ইউরোপীয় যন্ত্রপাতি বলে চালিয়ে দিয়ে ১০-১২ কোটি টাকার বিল তুলে নিয়েছে।
তদন্ত কমিটি সুনিদিষ্ঠভাবে প্রমানাদিসহ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পরেও অদ্য পর্যন্ত উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
পিপিআর-২০০৮-২০০৯ এর বিধান অনুযায়ী কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাল জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহন করলে এবং সেটি প্রমানিত হলে তাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে/সমগ্র দেশের জন্য কালো তালিকা ভুক্তির বিধান রয়েছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এলডিডিপি প্রকল্পের ডিপিডি ডা: সাকিফ আল আজম (দীপ্ত) উক্ত ঠিকাদারের ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
পূর্বেও একই ঘটনার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজ এলডিডিপি প্রকল্পে প্রায় শত কোটি টাকার মেশিনারীজ, যন্ত্রপাতি, কমজুমাবল আইটেম ইত্যাদি সরবরাহ করেছে এবং প্রত্যেকটি দরপত্রে অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজ এলআরআই, মহাখালীতে ফ্রিজ ড্রাইয়িং মেশিন ও যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য মালামাল সরবরাহকালেও জাল স্টিকার এর বিষয়টি ধরা পড়েছিল কিন্তু ঘুসের টাকার কাছে কর্তৃপক্ষ নতিস্বীকার করায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি এখন দূর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তনাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।
ফেক বা ভুয়া ম্যানুফেকচার অথরাইজেশন সনদের এর বিষয়টি প্রমানিত হওয়ার পরেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে এলডিডিপি প্রকল্পের পিডি মো: আব্দুর রহিম, সিটিসি ডা: গোলাম রাব্বানী ও ডিপিডি সাকিফ আল আজম (দীপ্ত) এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে জানান।

