ঢাকাWednesday , 27 March 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাছ ধরতে বাধা
শরণখোলায় বন কর্মকর্তাদের উপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলা

Link Copied!

সুন্দরবনে অভায়রণ্যে মাছ ধরতে না দেওয়ায় শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি আসাদ হাওলাদারের নেতেৃত্বে হামলায় ২ বনরক্ষীসহ বন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসান, ফরেস্টার মতিউর রহমান ও স্পিডবোট ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম। আহতদের শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে হামলার ঘটনায় বন বিভাগ শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি (স্থগিত) আসাদ হাওলাদারসহ ছাত্রলীগের ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় মামলা করেছে সুন্দরবন বিভাগের বগী স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার জাহাঙ্গীর আলম। মামলা নম্বর-০৯, তারিখ: ২২/০৩/২০২৪ ইং। ধারা-১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩০৭/৩৫৩/৫০৬(২)/১১৪ পিসি। পুলিশ শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালে অভিযান চালিয়ে জসিম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসান জানান, ‘শরণখোলা উপজেলা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান হাওলাদার ও ছাত্রলীগকর্মী সাইফুল ইসলাম রুবেল খলিফা সুন্দরবনে শিকার নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে মাছ ধরার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। তাদের এই অনৈতিক দাবি না মানলে তারা আমাকেসহ বনরক্ষীদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক বন দিবস পালন শেষে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিমকে এগিয়ে দিতে শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন বাজারের খেয়াঘাটে পৌঁছানো মাত্র পরিকল্পিতভাবে আসাদুজ্জামান হাওলাদার ও সাইফুল ইসলাম রুবেল খলিফার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী তাদের উপর অর্তকিত হামলা চালায়। হামলায় বন কর্মকর্তা ও বনরক্ষীসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন।’
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, ‘সুন্দরবনের আলীবান্দা এলাকা পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে খুড়িয়াখালী বাজার নামক স্থানে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদ হাওলাদারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন আমাদের পথরোধ করে। সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় জোর করে মাছ ধরার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা চাপ দিয়ে আসছিল। এ সময় অভয়াশ্রমে মাছ ধরার অনুমতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তারা বনরক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। এতে এসিএফ শেখ মাহাবুব হাসানসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।আমাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান এই বন কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন আকন শান্ত বলেন, ‘একজন কর্মকর্তাসহ বনরক্ষীদের মারপিট করে আহত করার ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যে যত বড় নেতাই হোক তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে।’
শরণখোলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, আহত সবাইকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহতরা এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন।
এদিকে বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে বন বিভাগের অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদ হাওলাদার বলেন, ‘এসিএফ মূলত টাকার বিনিময়ে অভায়শ্রমে মাছ ধরার অনুমতি প্রদান করে আসছে। এতে সাধারণ জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে জানালে এসিএফ ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের একজনকে ধাক্কা মারেন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আমাদেরও একজন আহত হন।’
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, এ হামলার ঘটনায় সুন্দরবন বিভাগের বগী স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার জাহাঙ্গীর আলম গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাতে বাদী হয়ে আসাদ হাওলাদার, সাইফুল ইসলাম রুবেল খলিফা, মাসুদুর রহমান রনি, আমির হাসান চয়ন, জসিমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জন জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। গত শুক্রবার সকালে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য অসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ মারাত্মক আতঙ্কে ভুগছেন। সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বন কর্মকর্তাদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তারের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে। দুষ্কৃতিকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য বিষয় নয়। তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে বাগেরহাট জেলার জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের উপর হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে এবং একজন আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীদের কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।