ঢাকাSaturday , 31 January 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রিয়াজ রহমানের ওপর হামলা: সন্দেহে নিজ দলের লোকজনই

Link Copied!

riazনিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে অত্যাধুনিক (৭.৬ বোর) পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়। কাছে থেকে এ গুলি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধারের পর পরীক্ষা ও তদন্ত করে এমন ধারণা পেয়েছে গোয়েন্দারা।
তবে ১৭ দিনেও রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। এখনো অনেকটা ধারণার উপর চলছে তদন্ত। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি বিষয় নিয়েই তারা তদন্ত করছেন। তবে দলীয় স্বার্থে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রিয়াজ রহমানের ওপর নিজ দলের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এ ধারণাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তদন্তে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা কাছে দাবি করেন, ১৪ জানুয়ারি ইউরোপীয় কূটনীতিকদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর পূর্ব নির্ধারিত ব্রিফিংকে সামনে রেখে ওই হামলা চালানো হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের যে উপদেষ্টারা বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তারাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হামলার শিকার হয়েছেন। বিদেশিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ‘কৌশলগত’ কারণে দলের ভেতরই একটি অংশ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে কি না তা নিয়ে তদন্ত করছেন গোয়েন্দারা।
তদন্তকারীদের ধারণা, রিয়াজ রহমানকে হত্যার কোনো উদ্দেশ্য হামলাকারীদের ছিল না। গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় গুলি করলে তা মাথায় বা বুকে লাগার কথা। রিয়াজ রহমানের শরীরের নিচের দিকে এমন স্থানে গুলি লেগেছে যেখানে লাগলে মানুষ মারা যাওয়ার কথা নয়।
এদিকে সেই সন্দেহটা আরো দানা বেঁধেছে। কারণ হামলার পর থেকে তার পরিবারের লোকজন তদন্তে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সহযোগিতা করছে না। রিয়াজ রহমান নিজেও এই নিয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খুলছেন না। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা রিয়াজ রহমানের গাড়ি চালকও এই নিয়ে কোনো কথা না বলে চুপ রয়েছেন। তবে এই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা।
তবে রিয়াজ রহমানের মেয়ে আমেনা রহমান বলেন, ‘তিনি (রিয়াজ রহমান) এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেননি। তাছাড়া সময় খারাপ। এ অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে কেউই কথা বলতে চাচ্ছেন না। চলমান পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশকেও এ বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।’
সূত্র জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে গুলশানের ৫৪ নম্বর রোডে রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন গুলশান থানার এসআই শফিকুল আলম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পলিশের ন্যস্ত হয়েছে। তবে আহত রিয়াজ রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৭ দিনেও থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে হামলাকারী কারা ছিল তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনায় রিয়াজ রহমান ও তার গাড়ি চালকের সঙ্গেও এখনো কথা বলা যায়নি। এ ক্ষেত্রে পরিবারের লোকজনের সহযোগিতা চাওয়া হলেও শুরু থেকে তারা বিষয়টি এড়িয়ে চলছে।’
তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত গুলির খোসাটি ছিল ৭.৬ বোরের পিস্তলের। কাছ থেকে এ গুলি রিয়াজ রহমানের শরীরের নিচের অংশ লক্ষ্য করেই করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ঘটনার পর দু’টি ভিডিও ফুটেজ পুলিশ ও র‌্যাব সংগ্রহ করে। র‌্যাবের কাছে ১০ সেকেন্ড ও পুলিশের কাছে ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজগুলো রয়েছে। তবে ওই ফুটেজে ধারণকৃত ছবি স্পষ্ট নয়। ফুটেজে দেখা গেছে, তিনটি মোটরসাইকেলে ৮ যুবক রিয়াজ রহমানকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি আগে থেকেই অনূসরণ করছিল। ওই ফুটেজে অপর একটি মোটরসাইকেলও দেখা গেছে। যেটিতে এক শিশুসহ একজন লোককে দেখা যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের গুলশান বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ডরেন টাওয়ারের একজন নিরাপত্তা প্রহরী পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৭/৮ জন যুবক প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। ওই সময় তিনি পরপর পাঁচবার গুলির শব্দ শুনেছেন। এক যুবক প্রাইভেটকার থেকে একজন ব্যক্তিকে টেনে হিঁচড়ে নামানোর সময় গুলির শব্দ শুনতে পান। তবে তিনি গুলি করার দৃশ্য দেখতে পাননি। এ ঘটনার পরপর প্রাইভেটকারে আগুন জ্বলতে দেখেন তিনি।
এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশে ডরেন টাওয়ার থেকে উদ্ধার করা ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, ভিডিও ফুটেজটি থেকে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ঝাপসা ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের রেখা আকারে অবয়ব দেখা যায়। এমনকি ওই ভিডিও ফুটেজে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটগুলোও অস্পষ্ট দেখা যায়।
পুলিশের গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার নুরুল আলম বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। তাদের বেশিরভাগ ঘটনার সময় গুলির শব্দ শুনেছেন। রিয়াজ রহমানের গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার দৃশ্যও তারা দেখেছেন। তবে গাড়িতে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারা হয়েছিল নাকি আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল- এ ব্যাপারে সিআইডির আলামত পরীক্ষার রিপোর্ট না পেলে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’
একটি গোয়েন্দার সূত্রের দাবি, রিয়াজ রহমান ওই রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হন রাত সাড়ে ৮টায়। তার গাড়িটি আগে থেকেই পার্ক করা ছিল গুলশান দুই নম্বরের ধানসিঁড়ি হোটেলের কাছেই। গাড়িরচালক এবং অপর আরেক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে মিনিট দশেকের মধ্যেই রিয়াজ রহমান পার্ক করে রাখা তার গাড়ির সামনে পৌঁছে যান। ঠিক তখনই তিনি হামলার শিকার হন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রিয়াজ রহমান আপাতত আশঙ্কামুক্ত। তার চিকিৎসায় ইউনাইটেড হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক আমিনুলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের  মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তার কোমরের বাঁ দিকের পেছনে গুলি লেগে বের হয়ে যায়।