ঢাকাWednesday , 14 January 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১ লাখ টাকার জন্য ব্যবসায়ী ফায়েজের পায়ে গুলি!

Link Copied!

Foyejনিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের গুলিতে আহত ব্যবসায়ী ফায়েজ আলীর পরিবার এখন পুলিশের ভয়ে শঙ্কিত। তার পায়ে গুলি করার ঘটনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণখান থানা পুলিশ এখনো কোনো মামলা নেয়নি। এমনকি ফায়েজের স্বজনদের উল্টা হুমকি দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয় পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী রেহানা ফায়েজ এ অভিযোগ করেন।
এদিকে স্বজন ও সহকর্মীরা বলছেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে দক্ষিণ খান থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল ব্যবসায়ী ফায়েজের পায়ে গুলি করে। বেশ কিছুদিন ধরেই ফায়েজের কাছে তিনি এক লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। ঘটনার সময় ওই ব্যবসায়ীর কাছে এক লাখ টাকা ছিল। পরে ওই টাকার হদিস পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ী ফায়েজের স্ত্রী রেহানা ফায়েজ বলেন, ‘কোনো অপরাধ ছাড়াই ধরে নিয়ে আমার স্বামীকে পুলিশ গুলি করেছে। এখন কোনো মামলাও নিচ্ছে না। থানায় গেলে বের করে দিচ্ছে। আবার বাড়াবাড়ি না করার হুমকিও দিচ্ছে। আমরা কি এর বিচার পাবো না?’
গত সোমবার আবরোধের মধ্যে রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন আজমপুরের মুন্সি মার্কেটের সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হন ব্যবসায়ী ফায়েজ আলী (৫২)। তাকে কি কারণে পুলিশ গুলি করেছে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এদিকে চিকিৎসকরা স্বজনদের জানিয়েছেন, অনেকদিন তাকে ভুগতে হতে পারে। বেঁচে থাকলেও বাকি জীবন কাটবে পঙ্গু হয়ে।
এদিকে অভিযুক্ত এসআই জয়নালকে আসামি করে মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণখান থানায় মামলা করতে যান ব্যবসায়ী ফয়েজ আলীর স্বজনরা। তবে পুলিশ তাদের মামলা না নিয়ে থানা থেকে উল্টো বের করে দেয়।
টাকার জন্য গুলি : স্বজনরা জানান, ফয়েজ আলী উত্তরার আজমপুরের আইয়ুব মার্কেটের এমএস নিপু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি রড-সিমেন্টের দোকানের মালিক। ১৩ নম্বর মধ্য আজমপুরে তার নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। এলাকায় আরো অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। কখনো কোনো রাজনৈতিক মিছিলে যাননি তিনি। এলাকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি এমনকি জাতীয় পার্টির কোনো রাজনীতির সঙ্গেও তিনি কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না। এলাকায় ভালো ব্যবসায়ী হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। এলাকায় অনেক সম্পত্তি আছে তার। এ কারণে তার অনেক শক্রুও।
থানা পুলিশ আগে থেকেই তার কাছে চাঁদা দাবি করতো বলে অভিযোগ করছেন স্বজনরা। ঘটনার আগে অনেকবার তার কাছে এসআই জয়নাল লক্ষাধীক টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই টাকা না দেয়ার কারণে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় এসআই জয়নাল।
গত সোমবার তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার নিজের একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে যান। এ সময় তার সঙ্গে এক লাখ টাকা ছিল। সেখান গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই এসআই জয়নাল তার পায়ে গুলি করেন। এরপর তার কাছে থাকা টাকারও কোনো হদিস নেই বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
ওই এলাকার সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার একরাম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসায়ী ফায়েজ আলীকে পুলিশ চাঁদার টাকার জন্য গুলি করেছে। কারণ এসআই জয়নাল পুলিশ হলেও একজন চাঁদাবাজ। এসআই জয়নাল আমাকেও (একরাম উদ্দিন) একবার আটক করে থানায় নেয়। এরপর ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মুক্তি দেয়। ওই টাকা না দিলে আমাকে পুরাতন মামলায় গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল।’
সুলতান নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুলিশ এলাকার বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেয়। ভয়ে এলাকার ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাদের টাকা দেয়। আর যারা টাকা না দেয় তাদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। ব্যবসায়ী ফয়েজ এসআই জয়নালকে টাকা না দেয়ার কারণেই তার পায়ে গুলি করেছে। ফয়েজ কখনো কোনো নাশকতার সঙ্গে জড়িত নয়।’
প্রত্যক্ষদর্শী ফয়েজের নিকটাত্মীয় নুরুল হাসান জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে ফয়েজের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলছিলেন। এ সময় এসআই জয়নাল এসে কলার টেনে ধরে নিয়ে যেতে চান তাকে। কারণ জানতে চাইলে জয়নাল ফয়েজের কাঁধ ধরে পেছনে ঘুরিয়ে তার কোমরে গুলি করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হলে এসআই জয়নাল সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে আরেকটি পিস্তল তাক করে মোটরসাইকেলে করে চলে যান।
গুরুতর আহত ফয়েজ আলীকে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্র জানায়, ফয়েজের কোমরের ডান পাশ দিয়ে একটি গুলি লেগে বের হয়ে গেছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফায়েজ আলী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি- আমি তোমার বাবার বয়সী। আমার কী অপরাধ? ক্যান আমাকে ধইরা নিয়া যাইতাছো?’ হের (এসআই জয়নাল) হাতটা ধরে কতো আনুরোধ করলাম। হেয় আমার কোনো কথা রাখলো না। কলার ধরে টাইনা হেঁচরা লইয়া যাওনের সময় আমার পায়ে গুলি করলো। আমি রাস্তায় পইরা গেলাম।’
ফায়েজের বিরুদ্ধে নেই অভিযোগ : আজমপুরের বাসিন্দা আবুল খায়ের জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ফয়েজের সঙ্গে তার পরিচয়। ফয়েজ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নন। এলাকায় ব্যবসায়ী হিসেবেই লোকে তাকে চেনে।
তিনি যোগ করেন, ‘রাজনীতি করলেই বা কি? যে কেউ ইচ্ছা করলে রাজনীতি করতে পারে। ইচ্ছামতো যেকোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারে। তাই বলে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে গুলি করবে পুলিশ?’
বাবার পায়ের গুলি নিয়ে গত দুইদিন ঠিকমত ঘুমাননি ফয়েজের ছেলে রাহাদুল ইসলাম নিপু। তিনি বলেন, ‘পুলিশ চাঁদার টাকা না পেয়ে বাবাকে গুলি করেছে। আমার বাবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। গত কয়েকদিন আগে আমাদের বাসার সামনে এসআই জয়নালকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছি। এলাকার চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে জয়নালের সম্পর্ক রয়েছে। আমার ধারণা, বাবাকে পরিকল্পিতভাবে এসআই জয়নাল গুলি করেছে।’ এ ঘটনায় জয়নালকে আসামি করে মামলা করার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি।
তবে মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দক্ষিণখান থানার ওসি শামীম আর রশিদ তালুকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে মামলা নেয়া হবে।’
পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা : এসআই জয়নালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দক্ষিণ খান থানার ওসি শামীম অর রশিদ তালুকদার বলেন, ‘এসআই জয়নালকে ফায়েজের লোকজন মারধর করায় তিনি অসুস্থ। এ কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ছুটিতে বাসায় রয়েছেন। অসুস্থ থাকায় তার মোবাইল ফোন বন্ধ।’
ওসি বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে ব্যবসায়ী ফায়েজ। সে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওই এলাকার রেললাইন, বস্তি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই পুলিশসহ বিভিন্ন পরিবহন, দোকানপাট এমনকি বাসা বাড়িতেও ককটেল মেরে ও আগুন ধরিয়ে নাশকতা চালানো হয়। এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বিএনপিসহ জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়িত। এদের সঙ্গে আগে থেকেই ব্যবসায়ী ফয়েজের সুসম্পর্ক রয়েছে।’
ওসি আরো বলেন, ‘গত সোমবার নাশকতার খবর পেয়ে আজমপুর এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ফয়েজ ও তার সহযোগীরা পুলিশকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা চালান ফয়েজ। ধ্বস্তাধ্বস্তির একপর্যায়ে গুলি বের হয়ে ফয়েজের পায়ে লাগে। তার পায়ে গুলি করার অভিযোগ সঠিক নয়।’
এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ট্রাফিক সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠনে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, নাশকতা চালানোর একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ী পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনায় পুলিশের কোনো অপরাধ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।