আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মুম্বাই হামলার মূল হোতা এবং জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বা’র প্রধান জাকিউর রাহমান লাখভির জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের এক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আদালত তার জামিন মঞ্জুর করার পর এ কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ সরকার।
লাখভি এবং তার সহযোগিরা মিলে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ভারতের মুম্বাই শহরে ওই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিলেন। এখন ইসলামাবাদ রসরকার মনে করছে তার জামিন বাতিল করার জন্য মুম্বাই হামলার মামলাটিই যথেষ্ট।
এ সম্পর্কে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজন্সির প্রসিকিউটর আজহার চৌধুরী ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভ’কে বলেছেন,‘আমরা তার জামিনের আদেশটি হাতে পেলেই এর বিরুদ্ধে আপিল করব এবং তাকে আটকে রাখার দাবি জানাব।’
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের এক আদালত ১০ লাখ রুপির বন্ডের বিনিময়ে লাকভির জামিন মঞ্জুর করেন। এ সম্পর্কে সরকারি পক্ষের উকিল জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো জোরালো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। এর আগে ১০ ডিসেম্বর জামিনের আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। মুম্বাই হামলা মামলায় লাখভি এবং তার ছয় সহযোগিকে ২০০৯ সালে আটক করেছিল পাকিস্তান পুলিশ।
মঙ্গলবার পেশোয়ার স্কুলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মাত্র একদিন পরেই লাখভির জামিন পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ইসলামাবাদ সরকার। তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রতিবেশী দেশ ভারতও। এরই প্রেক্ষিতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানায় পাক সরকার।
এর আগে লাখভির জামিনের খবর পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে ভারত জানায়, এই রায় মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া পাকিস্তান সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন,‘আদালতের এই সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক। ভারত মুম্বাইয়ের ২৬/১১য়ের হামলার ওপর পর্যাপ্ত প্রমাণ দেয়ার পরও জড়িতদের বিচারের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান।’
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে লস্কর-ই-তৈয়বার দায়িত্বে থাকা লাকভি তার অন্য সহযোগীদের নিয়ে মুম্বাই হামলার ছক কষেন। তিনি দলের ১০ সন্ত্রাসীকে প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়া হামলাকারীদের আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলা-বারুদেরও যোগান দিয়েছিলেন ৫৪ বছরের এই জঙ্গি। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়েছিল। লড়াইয়ে নিহত হয় ৯ জঙ্গিও। মুম্বাইয়ের ওই হামলা ভারত এবং পাকিস্তানের শান্তিপ্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল।

