বিনোদন ডেস্ক : ষাটের দশকের মাঝামাঝি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন নায়করাজ রাজ্জাক। একই সময়ে শক্তিমান অভিনেতা খলিলও চলচ্চিত্রে আসেন। কিন্তু দুজনের মধ্যে তখনও পরিচয় ঘটেনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো দুজনের পরিচয় ঘটে। এ সম্পর্কে রাজ্জাক বলেন, ‘মজিবুর রহমান মজনুর ‘গুণ্ডা’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে খলিল সাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। সেখান থেকেই বন্ধুত্বের শুরু।’
বন্ধু তো অনেক রকমের থাকে, কিন্তু তাদের বন্ধুত্বটা পারিবারিক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এ কারণে যে কোনো অনুষ্ঠান কিংবা উৎসবে দুই বন্ধু এক হতেন। নায়করাজ বলেন, ‘কিছু দিন আগে ঈদ উপলক্ষে আমার সঙ্গে দেখা করতে বাসায় এসেছিলেন তিনি। তখন অনেক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল।’
রাজ্জাক আরো বলেন, ‘দুজন যখনই এক জায়গায় হতাম, তখনই রাজ্যের গল্প শুরু হতো। বিশেষ করে দুজন যেহেতু একই অঙ্গনের মানুষ, তাই চলচ্চিত্রের ভালো-মন্দ নিয়ে বেশি কথা হতো। শেষবার যখন দেখা হয়েছিল, তখন একসঙ্গে চলচ্চিত্রকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনাও করেছিলাম।’
রাজ্জাকের চেয়ে আট বছরের বড় ছিলেন অভিনেতা খলিল। এ কারণে রাজ্জাক যখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না, তখনই খলিলের কাছে ছুটে যেতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বড় ভাইয়ের মতো দেখতাম। এ কারণে কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন পড়লে তার কথাই আগে মনে পড়তো।’
১৯৯৯ সালে রাজ্জাকের নির্দেশনায় ‘সন্তান যখন শত্রু’ ছবিতে দুজন শেষবারের মতো একত্রে অভিনয় করেন। তারপর তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক ছিল। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাক বলেন, ‘কিছু দিন আগে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তখন খলিল সাহেবও অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু নিজের শরীরের কথা না ভেবে তিনি আমাকে এক নজর দেখার জন্যে ছুটে এসেছিলেন।’

