মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের দশটি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ চলাচলের প্রায় ১৬ কিলোমিটার জুড়ে পাঁচটি কাঁচা রাস্তাই বেহাল দশায়।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গ্রামের এসব গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়ক বর্ষাকাল এলেই চাষ দেওয়া খেতের মতো হয়ে যায়। কাদা থিকথিক করে। এ কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। রোগীদের কোলে করে এই কাদায় ভরা পথ পার করতে হয়। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। স্কুলে কমে যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। কাদার ভয়ে স্থানীয় বাজারের অনেক ব্যবসায়ী এই গ্রামে তাদের বাড়ি ফেরেন না।
বিকল্প না থাকায় গ্রামের বাসিন্দাদের কাদা মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হয়। বছরের পর বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী এসব সড়ক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে ধর্ণা দিয়েও লাভ হচ্ছে না । মহম্মদপুর উপজেলা সদর থেকে পাকা রাস্তা ধরে তিন কিলোমিটার গেলেই বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। প্রধান সড়ক থেকে গ্রামের মধ্যে যাওয়া অধিকাংশ সড়কই কাঁচা। এসব সড়ক এখন সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগি।
বেহাল সড়কগুলো হচ্ছে, বড়রিয়া বাবু মোল্যার বাড়ির ব্রীজ হতে মৌশা গুচ্ছ গ্রাম হয়ে নিখড়হাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩ কিলোমিটার। বড়রিয়া নতুন বাজার হতে মৌশা আদর্শ গ্রাম হয়ে নিখড়হাটা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশ দিয়ে ছোট কলমধারী ৪ কিলোমিটার। বালিদিয়া শিকদার মোড় থেকে নিখড়হাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে গোলাবাড়ি মৌশা হয়ে কানুটিয়া বাজার ৫ কিলোমিটার। বালিদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যন পান্নু মোল্লার বাড়ির সামনে থেকে ঘোষপুর মোড় হয়ে মৌশা মোল্লা পাড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং বড়রিয়া মেলা এলাকা থেকে নিখড়হাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ কিলোমিটার পথ।
এসব সড়ক দিয়ে ধোয়াইল, বড়রিয়া, নিখোড়হাটা, বালিদিয়া, শ্রীপুর, ছোটকলমধারী, মঙ্গলহাটা, মৌলী, চাবিনগর, গোপিনাথপুর, কাওড়া, চাপাতলা, কানুটিয়া, মাইজপাড়া, ঘোষপুর, আউনাড়া ও যশপুরসহ আশপাশের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করেন।
প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের দশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে এসব সড়কেই যাতায়াত করতে হয়। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনেও গ্রামের মানুষ এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমির উৎপাদিত ফসল এসব সড়ক দিয়েই কৃষকের আঙিনায় আসে। অথচ সড়কগুলো উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে না।

