ঢাকাSunday , 12 March 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভক্ত-অনুসারীদের ভিড়ে মুখর সাঁইজির বারামখানা

Link Copied!

আখড়ায় গানের আসর

আখড়ায় গানের আসর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : হাজারো ভক্ত-অনুসারীর ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া বাড়ি। বাউল, সাধু আর ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে সাঁইজির বারামখানা। লালন একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চলছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। ফকির লালন সাঁইয়ের ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয় শনিবার রাতে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সেখানে জড়ো হয়েছেন লালনের ভক্ত ও অনুসারীরা। দিনভর লালনের ভাব-দর্শন আর সংগীতে গোটা এলাকা মাতিয়ে রাখছেন তারা।
জানা যায়, সাঁইজি জীবিত থাকাকালে ফাল্গুন মাসের শেষে দোলপূর্ণিমা তিথিতে কালীগঙ্গা নদীর তীরে শিষ্যদের নিয়ে রাতভর গান-বাজনা ও তত্ত্ব আলোচনা করতেন, যা কালক্রমে পরিণত হয়েছে লালন স্মরণোৎসবে।
মাজারের খাদেম মোহাম্মদ আলী জানান, এ অনুষ্ঠান চাঁদের সঙ্গে সর্ম্পকিত। বাউলরা চাঁদ দেখে আচার পালন করেন। লালন সাঁইজি জীবিত থাকাকালে ফাল্গুন মাসের শেষে দোল পূর্ণিমা তিথিতে কালী নদীর তীরে শিষ্যদের নিয়ে রাতভর গান-বাজনা ও তত্ত্ব আলোচনা করতেন। লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জহির রায়হান জানান, অনুষ্ঠানকে সফল করতে এবার একটু বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এতে কোনও অসুবিধা হবে না। আশা করছি সবাই উৎসব উপভোগ করতে পারবে।’
এদিকে, লালন উৎসবকে ঘিরে মাজার প্রাঙ্গণের পাশেই স্থানীয় প্রশাসন একটি মেলার আয়োজন করেছে। সেখানে সাধুরা তাদের ভক্তদের নিয়ে লালনের ভাব দর্শন, লালন গীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন। এছাড়া সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালন একাডেমির উদ্যোগে লালনের জীবন দর্শন নিয়ে মুক্ত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া শহরের কুমারখালী উপজেলার কালীগঙ্গা নদী তীরের ছেঁউড়িয়ার লালন সমাধি। বাংলা ১২৯৭ সালের পয়লা কার্তিক এখানেই মরমী সাধক লালন শাহ মারা যান। এরপর থেকে এ এলাকায় তার স্মরণোৎসব পালিত হয়ে আসছে। সাঁইজির রীতি অনুসারে দোলপূর্ণিমার রাতের বিকালে অধিবাসের মধ্য দিয়ে ২৪ ঘণ্টার দোলসঙ্গ শুরু হয়। চৈত্রের পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎস্নার ছটায় আর মাতাল হাওয়ায় গানে গানে বাউল সাধকরা হারিয়ে যায় ভিন্ন কোনো জগতে। পরের দিন চারটায় ‘পুণ্যসেবা’ দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ করে আখড়াবাড়ি ত্যাগ করেন বেশিরভাগ সাধু।