মেহেরপুর প্রতিনিধি : মেহেরপুরে ডায়রিয়ায় অাক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ২০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৬০টি শিশু । বেড না পাওয়ায় খোলা বারান্দায় থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহে হঠাৎ করেই এই জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। ফলে হাসপাতালে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখাই বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য নির্ধারিত ২০টি শয্যা আছে। অথচ ভর্তি থাকছে ৫০ থেকে ৬০টি শিশু।
এ ছাড়া ভর্তি রোগী ছাড়াও বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না থাকায় সিঁড়িঘরের পাশে খোলা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। এতে ঠান্ডা লেগে শিশুরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
স্বজনদের দাবি, হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসকদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এমনকি ডায়রিয়ার জন্য জরুরি খাওয়ার স্যালাইনও তারা হাসপাতাল থেকে পাচ্ছেন না।
মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের হেমা তার ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা নিতে আসেন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে। তিনি জানান, চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তার স্বজনরা।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মৃণাল কান্তি মণ্ডল জানান, এটা একটা ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগ থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে মায়েদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে।
দ্রুত স্যালাইনের সংকট দূর হওয়ার আশা প্রকাশ করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এহসানুল কবির বলেন, রোটা ভাইরাসজনিত কারণে এখন ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনিও হাসপাতালে খাওয়ার স্যালাইনের সংকটের কথা স্বীকার করেন।

