ঢাকাTuesday , 29 November 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিসমিল্লাহ ঋণ কেলেঙ্কারির ৭ হোতার সম্পদের খোঁজে দুদক

Link Copied!

Dudokনিজস্ব প্রতিবেদক : বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ১২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সাত প্রধান আসামির অবৈধ সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সাত প্রধান আসামি হলেন বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিক ও মেসার্স সাহরিশ কম্পোজিট টাওয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান চৌধুরী, একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও খাজা সোলেমানের স্ত্রী মিসেস নওরীন হাসিব, পরিচালক খাজা সোলেমানের পিতা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (জিএম ও অথরাইজড সিগনেটরি) মো. আবুল হোসাইন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার ও অথরাইজড সিগনেটরি) রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন ও জনতা ব্যাংকের ডিএমডি ও ঘটনাকালীন সময়ের করপোরেট শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুস সালাম আজাদ।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশন থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুদক উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী অনুসন্ধান কাজ তদারক করবেন।
সূত্র আরো জানায়, দুদক আইন, ২০০৪ ও দুদক বিধিমালা ২০০৭ অনুসারে অভিযোগটির অনুসন্ধান কাজ সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিশন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর অনুসন্ধান করে কোনো ব্যাংক হিসাব জব্দ বা কোনো সম্পদ ক্রোক করা হলে তা লিখিত আকারে মানিলন্ডারিং শাখাকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান টিমের তদারককারী কর্মকর্তা ও দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলী বলেন, সম্প্রতি বিসমিল্লাহ ঋণ কেলেঙ্কোরির দুদকেরই দায়ের করা মামলার ৭ আসামির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। অনুসন্ধান মাত্র শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’
টেরিটাওয়েল (তোয়ালে জাতীয় পণ্য) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে ৩ নভেম্বর মতিঝিল ও রমনা মডেল থানায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি ও ১৩ কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করে দুদক। এরপর ২০১৫ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলার চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
বিসমিল্লাহ গ্রুপের আত্মসাৎ করা ফান্ডেড টাকার পরিমাণ ৯৯০ কোটি আর নন-ফান্ডেড ১৮৪ কোটি। মামলাগুলো ফান্ডেড (৯৯০ কোটি) অংশের হয়েছে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে আত্মসাৎ হয়েছে ৩০৭ কোটি, মগবাজার শাখা থেকে ১৭৭ কোটি এবং এলিফ্যান্ট রোড শাখা থেকে ১৫ কোটি টাকা। আর প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ২৬৫ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ২৩ কোটি, যমুনা ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে ১০৮ কোটি এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ হয়েছে ৯৩ কোটি টাকা। বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী নওরীন হাবিব ১২ মামলারই চার্জশিটভুক্ত আসামি।
বিসমিল্লাহ গ্রুপের ৫৩ আসামির মধ্যে ১৩ জন আসামি বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৪০ জন আসামি জনতা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা।
বিসমিল্লাহ গ্রুপের আসামিরা হলেন-বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিক ও মেসার্স আলফা কম্পোজিট টাওয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান চৌধুরী, একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও খাজা সোলেমানের স্ত্রী নওরীন হাবিব, পরিচালক খাজা সোলেমানের পিতা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, তিন পরিচালক আবিদা হাসিব, নাহিদ আনোয়ার খান, খন্দকার মো. মইনুদ্দিন আশরাফ, বিসমিল্লাহ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি ও অথারাইজড সিগনেটরি) আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক (জিএম ও অথারাইজড সিগনেটরি) মো আবুল হোসাইন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার ও অথারাইজড সিগনেটরি) রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো আক্তার হোসেন, বে ইয়ার্ন লিমিটেডের মালিক গোলাম মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও টিডব্লিউ এক্সপ্রেসের মালিক মো. মঈন উদ্দিন।
এই ঘটনায় জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- ঘটনাকালীন সময়ের ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুস সালাম আজাদ, উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আজমুল হক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) সজল কুমার ঘোষ, মোস্তাক আহমেদ খান, ফয়েজুর রহমান ভূঁইয়া, জেসমিন আক্তার, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসইও) জয়নাল আবেদীন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আতিকুর রহমান, সোহেবুল কবির এবং সাবেক ম্যানেজার রফিকুল আলম।
এর মধ্যে উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আজমুল হক ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল কারগারে রয়েছেন। অন্যদিকে বিসমিল্লাহ গ্রুপের ওই আসামিরা বর্তমানে পলাতক হিসেবে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে দুদক থেকে বলা হয়েছে আসামিরা ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যহত রয়েছে।
এ বিষয়ে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালের কাছে জানাতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।