ঢাকাThursday , 13 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ

Link Copied!

durjogনিজস্ব প্রতিবেদক : অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। প্রায়ই মাঝারি থেকে বড় ধরনের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে এ অঞ্চল। সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বজ্রপাতকেও দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস আজ। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘টেল টু লিভ’ যার ভাবার্থ ‘দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে হলে, কৌশলসমূহ বলতে হবে’। দুর্যোগকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে আগাম বার্তা ও সম্মিলিত উদ্যোগে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন অনেক সমর্থ। দুর্যোগ ঝুঁকি তথা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ কর্তৃক ‘চ্যাম্পিয়ন অব্ দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ বছর ঘূর্ণিঝড় রুয়ানো উপকূলীয় ১৮টি জেলায় আঘাত হানে। এতে ২৭ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে এবং ৪ লাখ লোক প্রত্যক্ষভাবে ও ১২ লাখ লোক পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রুয়ানো আঘাত হানার পূর্বেই সরকার প্রায় ৫ লাখ লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। অথচ একই রুয়ানোতে শ্রীলঙ্কায় দুই শতাধিক লোকের প্রাণহানিসহ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের মতো সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে যথার্থ প্রস্তুতির কারণে এ ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ১ জুলাই ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)-কে নতুন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সরকার সিপিপিকে যৌথ কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করে দেশের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে একটি অনন্য মাইলফলক স্থাপন করে। দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি সারা বিশ্বে এ দেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমে সফলতা অর্জন করেছে। আমরা অবকাঠামোগত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে সাইক্লোন শেল্টার, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করেছি। ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার জন্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন এবং ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্সকে হস্তান্তর করেছি।’
এ ছাড়া সাইক্লোন আসার ৫ দিন পূর্বে সরকার আগাম বার্তা প্রদান করছে উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বজ্রপাতকে সরকার ২০১৬ সালে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে বলেন, বজ্রপাত মোকাবিলায় আগাম সতর্ক বার্তার সুযোগ খুব নেই বললেই চলে। তারপরও ভারী মেঘের আনাগোনা লক্ষ করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকলে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার বজ্রপাতে করণীয় বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং ও লিফলেট বিতরণ করেছে, বাসাবাড়িতে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড লাগানোর অনুরোধ করেছে। বিশেষজ্ঞগণের অভিমত অনুযায়ী প্রচুর পরিমাণে তালগাছ ও নারকেল গাছ রোপণ করা হলে গ্রামগঞ্জে সেগুলো বজ্র নিরোধক দণ্ড হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দিবসটি পালন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে । এর মধ্যে দেশব্যাপী আলোচনা সভা, পোস্টার স্থাপন, লিফলেট বিতরণ, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টক শো, সড়কদ্বীপ সাজসজ্জা, র‌্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড মহড়া, স্মরণিকা প্রকাশ ইত্যাদি রয়েছে।
আজ ওসমানী মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। এখানে ১০০ সাইক্লোন শেল্টার ও ৪৯টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রও একযোগে উদ্বোধন করা হবে।