আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে বিভেদ নিয়ে খবর প্রকাশের পর তোলাপাড় শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ডনের প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদনের প্রতিবেদককে দেশের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
গত সপ্তাহে ডনে খবর প্রকাশের পর সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর সরকার থেকে একটি ‘বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ তালিকা’ প্রকাশ করা হয়। যাতে ডনের ওই প্রতিবেদকের নাম রয়েছে।
সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে (মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে) ডনের সাংবাদিক সিরিল আলমেইদা এ বিষয়ে টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে এবং অবহিত করা হয়েছে এবং প্রমাণ দেখানো হয়েছে- আমি বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ তালিকায় আছি।’
নিজেদের প্রতিবেদনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ডনের সম্পাদক একটি সম্পাদকীয় লিখেছেন। এতে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মিথ্যাকাহিনী বলে যে প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, সেটি যথাযথভাবে যাচাইবাছাই করা, বর্ণনা ও ঘটনাগুলো বারবার খতিয়ে দেখার পর প্রকাশ করা হয়েছে… যাই হোক, নির্বাচিত সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত বার্তামাধ্যমকে টার্গেট করা থেকে বিরত থাকা এবং বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সংবাদপত্রকে বলির পাঠা না বানানো।’
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই একমত- প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিবেদনের নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। ভুল ও মিথ্যা তথ্য সংযোজন করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে, যার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল নেই।’
সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, সেনাপ্রধান রাহেল শরিফ, অর্থমন্ত্রী ইশাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলী খান, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রিজওয়ান আখতার মিলে এক বৈঠক করেন। এরপর প্রকাশিত হয় বিবৃতি।
৬ অক্টোবর সিরিল আলমেইদার তৈরি করা একটি প্রতিবেদন ডনে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, সরকার সেনাবাহিনীকে জানিয়েছে, সীমান্তাঞ্চলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যদি অভিযানে না যায়, তাহলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়বে।
এ খবরের আরো একটি ফলোআপ প্রতিবেদন তৈরি করেন আলমেইদা, যা ডনে প্রকাশিত হয়। এতে তিনি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্কের বিষয়ে বলেন।
১৮ সেপ্টেম্বর ভারত শাসিত কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটিতে হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দিল্লি অভিযোগ করে, এ হামলার নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করে ভারত। এর ধারাবাহিকতায় ভ-ুল হয়ে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন।
এরই মধ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানের মধ্যে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পরিচালনা করে ভারত। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই দেশের মধ্যে। পরে ৬ অক্টোবর সংবাদপত্র ডনে প্রকাশিত হয় সেনাবাহিনী ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিভেদসম্পর্কিত প্রতিবেদন।

