ঢাকাWednesday , 14 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চামড়ার দামে বিপর্যয়

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 14, 2016 12:31 pm
Link Copied!

korbaniনিজস্ব প্রতিবেদক : লবণের বাজারে অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে চামড়ার দামে বিপর্যয় নেমেছে। গত ৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হয়েছে পশুর চামড়া। ফড়িয়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর আগে কখনও এত কমদামে চামড়া কিনতে পারেননি তারা।
লবণের দাম বৃদ্ধির কারণে চামড়ার দাম কমেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘লবণের বাড়তি দাম সমন্বয় করাতে চামড়ার দামও খানিকটা কমে গেছে।’
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩ বছর আগের কোরবানির ঈদে পশুর মালিক যে চামড়া বিক্রি করেছেন ২ হাজার ২০০ টাকায়, এবারের ঈদে তার চেয়ে বড় ও ভালোমানের চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এছাড়া কোরবানি দেওয়ার জন্য ক্রয় করা দেড়লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। আর এক লাখ টাকা দিয়ে কেনা গরুর চামড়া ৯০০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গুলিস্তান এলাকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, ‘আড়ৎদার ও পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আমরা কমদামে চামড়া কিনেছি। গত ঈদে যে চামড়া ২ হাজার টাকায় কিনেছি, এবার সেই ধরনের চামড়া কিনেছি ১ হাজার ৩০০ টাকায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার সবচেয়ে বড় ও ভালো চামড়া ১ হাজার ৪০০ টাকায় পেয়েছি।’
জানা গেছে, লবণের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে গত বছরের চেয়ে এবার চামড়ার দাম ১০ শতাংশ হারে কম নির্ধারণ করেছেন ট্যানারি ব্যবসায়ীরা। গত বছর কোরবানির ঈদে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবছর তা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, দাম কমিয়ে পরপর ৪ বছর দেশে চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৩ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ধরা হয়েছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। এবছর সেই চামড়া সর্বোচ্চ ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে দাম ধরা হয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।
রাজধানীর মানিক নগর এলাকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী রবিউল করিম বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের নির্ধারণ করে দেওয়া দামের বাইরে এবার কেউ একটি চামড়াও কিনছেন না। লবণের দাম ও শ্রমিকের খরচ ধরে সবাই চামড়া কিনছেন। এ কারণে সব চেয়ে কমদাম দিয়ে এবার চামড়া কেনা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে চামড়া ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনেছি, পাইকারি ব্যবসীয়রাও সেটার দাম ১ হাজার ২০০ টাকায় নিতে চান।’
রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদে সবচেয়ে ভালো চামড়া সংগ্রহ করা গেছে দেড় হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এছাড়া বেশিরভাগ চামড়া ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনেছেন।
ক্ষুদ্র এই মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ৫ বছরে ৬০০ টাকায় কোনও গরুর চামড়া কেনা সম্ভব না হলেও এবার ৫০০ টাকায় বিপুল পরিমাণ গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে।’
পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়ার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী রইচ উদ্দিন জানান, ঢাকার বাইরেও চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। এখানেও সবচেয়ে ভালো চামড়া দেড় হাজার টাকায় কেনা সম্ভব হয়েছে। পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী ইব্রাহিম বলেন, আগে একটি বড় চামড়ায় ১০০ টাকার লবণ দিলে হতো। এবার ৩০০ টাকার লবণ দিতে হবে। এছাড়া ট্যানারি মালিকরা যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তার বাইরে গেলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বছর কোরবানিতে নির্ধারণ করে দেওয়া দামের চেয়ে বাজারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে চামড়া বেচাকেনা হলেও এবার কেউ এ ধরনের সাহস দেখাচ্ছেন না।