নিজস্ব প্রতিবেদক : কোরবানির বাকি এক সপ্তাহ। গরু আসতে শুরু করেছে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে। হাটের আয়োজন আরো আগেই শুরু করেছে ইজারাদাররা। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীতে এরই মধ্যে গরু আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো জমে ওঠেনি এই হাট।অনেক ব্যাপারী মনে করছেন, ঈদের তিন দিন আগে মূলত হাট ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে জমে উঠবে।
মঙ্গলবার দুপুরে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্যাপারীরা তাদের গরু, ছাগল নিয়ে বসে আছে। কিন্তু আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছে না। ক্রেতার উপস্থিতি তেমন না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দামও উঠছে না। তাই বিক্রিও তেমন হচ্ছে না।গাবতলি পশুর হাটে ঢুকতেই দেখা গেছে কুষ্টিয়া থেকে আসা হানিফ মিয়া তার গরুগুলোকে খাবার দিচ্ছেন।কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে হানিফ মিয়া বলেন, ‘আমি ২০টি গরু নিয়ে এখানে এসেছি ৪ দিন আগে। কিন্তু হাটে ক্রেতা না থাকায় অলস সময় পার করতে হচ্ছে।’
গরুর দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যে গরু আছে তার অধিকাংশের দাম ৮০ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা। তবে তিনটি গরু আছে যার প্রতিটির দাম চাইবো দেড় লাখ টাকার উপরে। এখনো এতো দাম দিয়ে গরু কেনার মতো ক্রেতা হাটে আসেনি।কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে এসেছেন অপর এক ব্যাপারী মতিন হালদার। তার সঙ্গে দেখা হাটের পশ্চিম পাশে। তিনি বলেন, `আমি ৪টি গরু নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে একটি গরু আকারে অনেক বড়। তাই অনেকেই দেখতে আসে।’
এ গরু সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর বয়স এখন প্রায় তিন বছর। ১৭ মাস বয়সের গরুটিকে নিজের গ্রামেই তিনি কিনেছিলেন। এই গরুর খাবারের জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।’দামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনো দাম নির্ধারণ করিনি। তাছাড়া দাম দিয়ে গরু কিনবে এমন ক্রেতা এখনো হাটে আসতে শুরু করেনি। তাই অপেক্ষায় আছি।’হাট পরিচালনা কমিটি হাসিলের বাইরেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক বিক্রেতা। তবে তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাট পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তারা।
এদিকে হাটে এখনো বেশি গরু না আসায় বিক্রেতারা বেশি দাম হাঁকছেন বলে মনে করছেন ক্রেতারা। গাবতলীতে গরু কিনতে আসা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ইয়াজ আহমেদ বলেন, ‘হাট এখনো পুরোপুরি জমেনি। তাই বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চাইছেন। এছাড়া হাটে সেভাবে গরুও আসেনি।’
গাবতলী পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গাবতলীতে বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই গরু কিনতে পাওয়া যায়। তবে ঈদকে ঘিরে চলে ভিন্ন রকম আয়োজন। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে ক্রেতা ততোই বাড়বে।’এদিকে গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। হাটের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।

