নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন- শীর্ষক প্রকল্পের জন্য চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) পণ্য ও কার্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ) আইন, ২০১০ এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। তবে প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৪৯০ কোটি টাকা।
জ্বালানি ও খনিজ বিভাগের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)- এ পরিশোধনের জন্য আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খালাসের বর্তমান পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ, অপচয় বৃদ্ধি ও পরিবেশের প্রতি প্রতিকূল। ইআরএলের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেল খালাস সহজ, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের বিষয়ে ‘ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপ লাইন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ) আইন, ২০১০-এর আওতায় দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটি গঠন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে লাইটারেজ- এর মাধ্যমে পরিবহন খরচ ও অপচয়সহ বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
সূত্র জানায়, এর আগে প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর একনেক বৈঠকে অনুমোদিত হয়। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৫০০ দশমিক ৪১১ মিলিয়ন ডলার, বিপিসির নিজস্ব অর্থায়ন ১৪ দশমিক ৩৫ ডলার, জিওবি ১১৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
সূত্র জানায়, পরবর্তীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী) অনুমোদনক্রমে ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়, উক্ত সংশোধন অনুযায়ী সর্বমোট প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৪২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৫৫০ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার, বিডিসির নিজস্ব অর্থায়ন ১১১ দশমিক ৯০ কোটি টাকা, জিওবি এক হাজার ২১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের কারিগরিসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আইএলএফ কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স, জার্মানিকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, চীন সরকার চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরোর (সিপিপি) মাধ্যমে এ প্রকল্প জিটুজি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয় এবং চীনের এক্সিম ব্যাংককে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য মনোনীত করে। এ বিষয়ে সিপিপির সঙ্গে গত ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এখন প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

