ঢাকাSaturday , 27 August 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনার ‘দিঘলিয়া গণহত্যা দিবস’ আজ

Link Copied!

Khulnaখুলনা প্রতিনিধি : খুলনার ‘দিঘলিয়া গণহত্যা দিবস’ আজ। ১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট দিঘলিয়ার দেয়াড়া গ্রামে পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিরীহ ৬০ জন গ্রামবাসী নিহত হন। দিঘলিয়াবাসী দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসাবে পালন করে আসছেন।
খুলনা শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরত্বে ভৈরব নদীর পাশ ঘেঁষে দিঘলিয়ার অবস্থান। সেখানে বিহারীদের কলোনী থাকায় স্বাধীনতা যুদ্ধে নিরীহ বাঙ্গালিদের উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।
লোমহর্ষক ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি সৈয়দ আবুল বাসার। বলেন, ‘আমাদের আর এখন কেউ খোঁজ নেয় না। কোন রিলিফও পাই না। এখন আমার আর কোন কিছু চাওয়া-পাওয়া-ও নেই। কেবল মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দিলে মরেও শান্তি পাবো।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও কোন সরকারই গণহত্যায় শহীদদের এই গণকবর সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।’
নিজের সমপর্কে জানান, ছোট্ট একটি মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। পুজি শেষ হওয়ায় দোকানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আয়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় তার পরিবারের সদস্যদের অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটছে। এমনকি বয়স্ক ভাতাটুকুও তার ভাগ্যে জোটেনি।
স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট ভোররাতে সে সময়ের ছাত্রনেতা শেখ আব্দার রহমান দলবল নিয়ে দেয়াড়া নিজ গ্রামে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে কয়েক শ রাজাকার, বিহারি ও পাক-হানাদার তার বাড়িসহ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। ওই বাড়ি থেকে ডা. মতিয়ার রহমান, তার চাচাতো ভাই পিরু ও আলী, ভাগ্নে ইসমাঈল হোসেন ছোট খোকা, জামাই আব্দুল জলিল, সহোদর আব্দুল বারিক, হোসেন সরদার, মোঃ আজিম হোসেন, সাত্তার শেখ ও পরা মানিককে ধরে নিয়ে যায়। একই রাতে গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ৫৫ জনকে ধরে নিয়ে যায়। সকাল ন’টার দিকে দেয়াড়া বিহারি কলোনির পৃথক তিনটি স্থানে তাদের গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয়। রাজাকাররা ২২ জনের লাশ পৃথক তিনটি স্থানে গণকবর দেয়। বাকী লাশগুলো পার্শ্ববর্তী ভৈরব নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
এ সময় লাশের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সৈয়দ আবুল বাসার ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তার পরিবারের সদস্যরা লাশের স্তুুপ থেকে তাকে তুলে নিয়ে আসে। কঠোর সতর্কতার মধ্যে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে নেওয়া হয়। আবুল বাসার ধারালো অস্ত্রের ১৯টি ক্ষত চিহ্ন নিয়ে এখনও বেঁচে আছেন।
দেয়াড়ার এ গণহত্যার ঘটনায় ২০০৯ সালের ৩০ জুন খুলনার আদালতে রাজাকারদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যায় নিহত ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে ২১ জন রাজাকারের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এদের মধ্যে ১৯ জন ইতিমধ্যেই মারা গেছে। বাকী ২ জন এখনও জীবিত। কিন্তু গত ৭ বছরেও মামলার কোন সুরাহা হয়নি। বর্তমানে অসুস্থ রয়েছেন বাদী রোকেয়া বেগম।
নিহত ইসমাঈল হোসেন ও মামলার বাদী রোকেয়া বেগমের মেয়ে শারমিন খাতুন রুনু বলেন, আমার মা (রোকেয়া বেগম) বাদী হয়ে রাজাকারদের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এখনো কোন বিচার আমরা পাইনি। মামলাটি পরিচালনা করতে যেয়ে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। কারও সাথে কথাও বলতে পারেন না। অর্থাভাবে তার সুষ্ঠু এবং প্রয়োজনীয় ন্যুনতম চিকিৎসাও করানো কঠিন হচ্ছে।
জানা গেছে, দেয়াড়া গ্রামের পাক বাহিনীর হাতে নিহত ৬০ জনের কারোরই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম নেই। তাদের পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।
২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি স্থানীয়ভাবে স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন শিল্পপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী শাহ নেওয়াজ। তার নিজস্ব জমিতে থাকা একটি গণকবরের পাশে ২য় গণকবরটি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে শহীদদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই দিনটিতে পালন করা হয় নানা কর্মসূচী।
এ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার দিনব্যাপী কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। কোরআন খানি, দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।