অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : কয়েকদিন পরই ঈদুল ফিতর। মুসলামানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত টানা ৯ দিনের ছুটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এমন সময়ে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকারই কথা। কিন্তু না, সরেজমিন ঘুরে এর উল্টো চিত্রই দেখা গেছে।
রাজধানীর মৌচাক মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, পলওয়েল এবং ফরচুন সুপার মলে ক্রেতাদের তেমন কোনো ভিড় দেখা যায়নি। এবার ঈদে সরকারি-বেসরকারি অফিসে টানা ৯ দিন ছুটি ঘোষণা করায় রাজধানী থেকে আপনজনের কাছে ছুটতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদ মার্কেটে ঘুরে সময় নষ্ট না করে আপনজনদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চান তারা। ফলে, ঈদ ঘনিয়ে এলেও মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের চাপ কম বলেই মনে করছেন দোকানীরা।
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেচাবিক্রি ভালো হবে বলেই আশা করেছিলেন বিক্রেতারা। কিন্তু টানা ৯ দিনের ছুটি, করভিত্তিক বাজেট পাস, ভারতীয় ভিসা আর রমজানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে গণ-গ্রেপ্তারাতঙ্ক আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে।
এনিয়ে কথা হয় আপন জুয়েলার্সের শাখা ব্যবস্থাপক রতন কুমারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অন্য যেকোন বছর ঈদের আগে দম ফেলানোর সুযোগ পেতাম না। আর এ বছর বিক্রয় কর্মকর্তারা অলস সময় পার করছেন।’
একই বিষয়ে কথা হয় ৩০ বছর ধরে মৌচাক মার্কেটে শাড়ি বিক্রি করে আসা ভাইয়া স্টোরের মালিক মো. সুজন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদে ছুটি কম হলে মানুষ গ্রামে বেশি যেত না। ঢাকাই থাকতো। আর মার্কেটের জন্যও কিছু টাকা ব্যয় করতো। কিন্তু এবার টানা ৯ দিনের ছুটি পেয়ে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছে। বাকিরা আজ-কালের মধ্যে ঢাকা ছাড়বেন। বেশি ছুটির কারণে মার্কেটের প্রতি নয়, বাড়ির প্রতি আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী।
এদিকে, সরকারি চাকরিজীবী মিরাজ উদ্দিন। পরিবার নিয়ে রাজধানীর কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটিতে এসেছেন ঈদের কেনাটাকা করতে। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘টানা ৯ দিনের ছুটি পেলাম। আজ রাতেই গ্রামের বাড়িতে যাবো। তাই বাচ্চাদের জন্য অল্পকিছু পোশাক কিনলাম। এবার ঈদে পাওয়া বোনাসের সিংহভাগই বাড়ি গিয়ে খরচ করব।’
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির একাধিক বিক্রেতা জানান, প্রতিবছর ঈদের আগে যে পরিমান জামা-কাপড় বিক্রি হয়, এবছর তার অর্ধেকেও বিক্রি হচ্ছে না। কারণ, মানুষের হাতে টাকা নেই। আবার যাদের হাতে টাকা আছে তাদের অধিকাংশই ঈদে ভিসা নিয়ে ভারত যাচ্ছে। এবার খুব সহজে দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ দেয়ায় অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি মানুষ ভারত যাচ্ছে। আর এই সুযোগে অনেকে ঈদের কেনাকাটাও সেখান থেকে করবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে লোকাল মার্কেটে।

