নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে সরকার জঙ্গি সৃষ্টি করে দেশব্যাপী খুনোখুনি করাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্ক উচ্ছেদে অনাগ্রহী বলেই জঙ্গিরা নির্বিঘ্নে তাদের অপতৎপরতা চালু রেখেছে। জঙ্গিদের অপতৎপরতার বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই প্রমাণিত হয় জঙ্গিরা সরকারেরই সৃষ্টি। সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার জন্যই নিজেরা জঙ্গি সৃষ্টি করে দেশব্যাপী খুনোখুনি করাচ্ছে।’
সরকার জঙ্গিবাদ দমনের নামে জনগণের ওপর ‘বেপরোয়া ক্র্যাকডাউন চালানোর’ পরও উগ্রবাদীদের তৎপরতা কোনো অংশেই কমেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘সারা দেশে বছরব্যাপী যেসব চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার কোনোটিতেই সুনির্দিষ্টভাবে কোনো হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি সরকার। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই এখন পর্যন্ত রহস্যঘেরা। এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য দেশে-বিদেশে কারো কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না।’
রাজধানীর সবুজবাগে বৌদ্ধ মহাবিহারের প্রধানকে হত্যার হুমকির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রায় ১৫ হাজারের অধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। বেশ কয়েকজনকে জঙ্গি হিসেবে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করেছে। তারপরও সবুজবাগে বৌদ্ধবিহারের প্রধানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে আর সেটা কীভাবে এল, তা জনগণ জানতে চায়।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনি যে কর্মকাণ্ডই করুন না কেন, মানুষ সেটি বিশ্বাস করে না। দেশের যেকোনো হত্যাকাণ্ডে আপনার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যে বিজ্ঞপ্তি দেয়, সেটিও মানুষ বিশ্বাস করে না। কারণ, জনগণ মনে করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিবৃতি দেয়।’
রিজভী বলেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যাকা- সম্পর্কে সরকার প্রধান ও সরকারি লোকজনদের বক্তব্য এবং তাদের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে জনমনে এখন একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে- এসব হত্যাকাণ্ড সরকারের অগোচরে হচ্ছে না। কারণ, সরকার তার অবৈধ অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। কখন কী ঘটে যায়- এই আশঙ্কায় সরকার সব সময় দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। নৈরাজ্য এবং অস্থিতিশীলতা সরকারের টিকে থাকার গ্যারান্টি।’
আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই সারা দেশে তারা গডফাদার তৈরি করে- এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় গডফাদার তৈরি হয়েছে। এরা অধিকাংশই এখন ভোটারবিহীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি। শাসক দলের এমপিদের হাতে গুলিবিদ্ধ হচ্ছে শিশুরাও, এদের হাতে মায়ের পেটের শিশুও নিরাপদ থাকতে পারেনি। শাসক দলের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সারা দেশ আজ প্রকম্পিত।’
বৌদ্ধবিহারের প্রধানকে হত্যার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী। অবিলম্বে বৌদ্ধবিহারের প্রধানকে যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

