নিউজ ডেস্ক : রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট খেকে জালিয়াতি করে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা তদন্তে চুক্তি নবায়নে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআইয়ের প্রস্তাব নাকচ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জামাল উদ্দিন সোমবার (২৭ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৫ ফ্রেব্রুয়ারি ওই টাকা তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা।
বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতে আলোড়িত এ চুরির দু’সপ্তাহের মধ্যে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ডেকে আনা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্তানাকে। তার পরামর্শে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট চুরির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআইকে। পরে জানা যায়, সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানটির মালিকও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই রাকেশ আস্তানা।
নিয়োগের সময় ফায়ারআই থেকে তাদের বলা হয়েছিল ৫৭০ ঘণ্টার মধ্যে দুঃসাহসিক এ চুরির আদ্যপান্ত জানাতে সক্ষম হবে। সে অনুযায়ী, ফায়ারআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০০ মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক হিসেবে চুক্তির ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়, যদিও পারিশ্রমিক হিসেবে আরও বেশি অর্থ চেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
চুক্তির কয়েক সপ্তাহ পর অন্তর্বর্তী এক প্রতিবেদনে ফায়ারআই তদন্তদল জানিয়েছে, হ্যাকাররা ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের গোপন তথ্য চুরি করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টাকা তোলার ভুয়া আদেশপত্র পাঠিয়ে এ জালিয়াতি সংঘঠন করে।
দুঃসাহসিক এ চুরি তদন্তের দায়িত্ব নেয়ার চারমাসেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ফায়ারআইয়ের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের এ সদস্য।
তদন্ত ব্যয় বেশির পাশাপাশি ফায়ারআইয়ের কাজে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বোর্ড সদস্যরা, যদিও প্রতিষ্ঠানটি বলেছে গুরুত্বপূর্ণ এরকম বিষয়ে তদন্তের জন্য এ চার্জ স্ট্যান্ডার্ড নয়। জামালউদ্দিন বলেন, পর্ষদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কম্পিউটার নিরাপত্তা সিস্টেম আরও উন্নত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া আদেশপত্র পাঠিয়ে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা।
ওই টাকার ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানো হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাকাতির সিটির জুপিটার শাখায় ব্যবসায়ী কিম অংয়ের অ্যাকাউন্টে। বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলংকাভিত্তিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে। প্রাপক সংস্থার নামের বানানে ভুল থাকায় ওই টাকার পেমেন্ট আটকে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

