নিজস্ব প্রতিবেদক : যুদ্ধাপরাধী ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেওয়ার কারণে প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।
বুধবার বেলা এগারটায় রাজধানীর ভাটারা থানার সামনে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে তিনি এ দাবি জানান।
যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ক্রমাগত লঙ্ঘনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বিপরীতে রাজধানীর ভাটারা থানার সামনে ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে সমাবেশে পাকিস্তানের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সমাবেশ শেষে পাকিস্তান হাইকমিশন অভিমুখে মিছিল করার কথা থাকলেও কূটনৈতিক এলাকা বিবেচনায় পুলিশের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত মিছিল করেননি তাদের নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের বিচার বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়। আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের ওপর তাদের কৃত জঘন্য অপরাধকেই প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিল। যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান নেতা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীকে ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’উপাধি দিয়ে পাকিস্তান মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনকারী এক ঘৃণ্য অপরাধীর পক্ষ নিল।
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান শুধু এই ঘটনাই নয়, বরং এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিশ্বমানবতার বিরুদ্ধে জাতীয় অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে কার্যত নিজেকেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। পাকিস্তান এর আগে ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমরসহ তালেবান গোষ্ঠীকে নিজ দেশে আশ্রয় দিয়েছে। আজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা একই অপরাধ করছে।
বাদশা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারেও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কামরুল আহসান, পার্টির সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, ইয়াসিন আলী এমপি, শেখ টিপু সুলতান এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিরুল হক আমিন, মোস্তফা আলমগীর রতন, সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায় প্রমুখ।

