নিজস্ব প্রতিবেদক : সকল রাজনৈতিক দলেরই একটা অদ্ভুদ চরিত্র আছে। কেন্দ্রীয় নেতারা কখনো সিদ্ধান্তে ভুল করলেও তৃণমূলের নেতারা কখনো ভুল করেননি, কখনো ভুল করেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের একাদশতম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা একথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের জেল জীবনসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কারাগার থেকে জাতীয় সংসদের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, অনির্বাচিত এই সরকার চিরদিন দেশ চালাতে পারবে না। বাংলার জনগণকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবই। জাতীয় সংসদকে সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবোই। পরবর্তী সময়ে গণমানুষের তীব্র আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার লেজ গোটাতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন আমি মুক্ত হই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর ওই ভিক্ষুকের দেশ না। বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। কাজেই দেশের জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। ভাল করেই জানি, ক্ষমতা এবং কারাগার খুব পাশাপাশি থাকে। এটা আমি ছোট বেলা থেকেই দেখেছি। তাই কখনো এটা ভয় করি না। কারণ বাংলাদেশে আসার পর থেকে যখনি আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি, বারবার আমাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। অনেক সময় মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কখনো আমি পিছিয়ে যাইনি।
যা হোক, বাংলাদেশের মানুষের জীবনে মাঝে মাঝে এই দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দেয়। কিন্তু আবার নতুন সূর্য উদিত হয়। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আর কখনও এ দুর্যোগ দেখা দেবে না। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। মানুষের যে আর্থ-সামাজিক উন্নতি হচ্ছে, তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধশালী হবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হবে।
এক/এগারোর সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুতুলের মতো বসে থাকার প্রস্তাব পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য কাজ করা আমার দরকার। পুতুলের মতো শুধু একটা কাঠপুতুল নিয়ে বসে থাকব, এই সুযোগ তো আমি নিতে পারতাম। আমি বাংলাদেশর প্রথম রাষ্ট্রপতির কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা। আমি নিজেও প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। আমার যদি এই সমস্ত সুখ-সম্পদের প্রতি নজর থাকত, তাহলে তো আমি সেই দিকেই নজর দিতাম। আমি তো তা করিনি। আমি দেশের উন্নতি করেছি। আমি দেশের উন্নতি করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। কাজেই আমি নির্বাচন চাই। নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে সেটাই মেনে নেব।’
এক/এগারোর সময়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আওয়ামী লীগের যে বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছিল, সেই সভায় আমাদের প্রত্যেক অঞ্চলের নেতারা যেভাবে দাবি তুলেছিলেন আমার মুক্তির জন্য এবং তৃণমূল থেকে আসা এই নেতাকর্মীদের বক্তব্যে বিরাট মনোবল ও জনমত সৃষ্টি হয়।
`আওয়ামী লীগের একটা অদ্ভুদ চরিত্র আছে। এটা বোধহয় শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সব রাজনৈতিক দলেরই। উপর স্তরের নেতারা কখনো কখনো সিদ্ধান্তে ভুল করেন কিন্তু তৃণমূলের নেতারা কখনো ভুল করেননি। কখনো ভুল করেন না।’
গতকাল ৭জুন ছয় দফা দিবসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ছয় দফার সময় আমি দেখেছি যে, উপরের নেতারা অনেকেই ভুল করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা ভুল করেননি। এই ছয় দফার পথ পেরিয়েই কিন্তু স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মাইনাস করতে চাচ্ছিল। এটা আসলে মাইনাসে মাইনাসে প্লাস হয়ে গেছে। কাজেই এখানে আর বেশি মতামত দিতে চাই না।’

