সিলেট প্রতিনিধি : গত বছরের ৪ জুলাই সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ২০ জুলাই সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি পদে ছাত্রনেতা আব্দুল বাছিত রুম্মান ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পান আব্দুল আলীম তুষার। প্রায় ১ বছরের মতো কেটে গেছে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের ওই কমিটির। এই সময়ে ছাত্রলীগ কী কার্যক্রম করেছে, ভবিষ্যতে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড কী হবে, এসব বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আব্দুল বাছিত রুম্মানের সঙ্গে।
আলাপচারিতার শুরুতেই রুম্মান নতুন সভাপতি হওয়ার অনুভূতি জানান। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়াতে খুব ভালো লাগছে। তিনি সিলেটের ছাত্র সমাজকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদ দূর করতে কাজ করে যাবেন। এ ছাড়াও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সব সময় সজাগ রয়েছে বলেও জানান রুম্মান।
সাংগঠনিক পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছে। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে যা যা দরকার তা করতে প্রস্তুত ছাত্রলীগ।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাই একটি জাতির এগিয়ে যাওয়ার বড় শক্তি। শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন ও জ্ঞানমুখী ছাত্ররাজনীতির প্রতি ছাত্রসমাজকে প্রলুব্ধ করাই হবে আমার নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগের ভূমিকা কী হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে বই-খাতা তুলে দিয়েছিলেন। নিয়মিত ছাত্ররাই ছাত্ররাজনীতি করবে। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগ অতীতের মতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’
ছাত্ররাই সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের হাল ধরবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনা হলো ছাত্ররাজনীতি করতে হলে ভালো ছাত্র হতে হবে। তাই ছাত্রলীগে শেখ হাসিনার নিদের্শনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভালো ছাত্রদের বাছাই করে নেতৃত্বে দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। আগামীর বাংলাদেশে ছাত্রলীগের মেধাবী ছাত্ররাই নেতৃত্ব দেবে।’
ছাত্রলীগের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তখনও ছাত্রলীগ পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছিল এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছিল। এ ছাড়াও নগরীর প্রতিটি স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে সিলেট মহানগরীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দলীয় কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ ছাড়াও সিলেট ল’ কলেজ এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই সম্মেলনের তারিখ জানানো হবে। ওই সম্মেলনের মাধ্যমে ওই দুই শাখায় নতুন নেতৃত্ব উপহার দেব।’
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন রুম্মান
বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়, সে অবস্থা থেকে ছাত্রলীগকে বের করে আনতে হলে তার ভূমিকা কী হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে রুম্মান বলেন, ‘ছাত্রলীগ দেশের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই সংগঠন কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে বিশ্বাস করে না। তাই এ সংগঠনে কোনো চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজের স্থান নেই। এরকম কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছাত্রলীগ নামধারী কিছু অনুপ্রবেশকারী এসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকে।’
ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী শিবির নেতাকর্মীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে দলের ক্ষতি করতে চায়। এদের সহজে ধরা যায় না। তবে তাদের বিরুদ্ধে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ সজাগ রয়েছে। শিবির থেকে অনুপ্রেবশকারী এমন কাউকে ধারা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে নাগাদ হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে রুম্মান বলেন, ‘শিগগিরই সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। আর সেই কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত ছাত্রনেতারাই স্থান পবেন। তবে ছাত্রলীগ করতে হলে অবশ্যই ছাত্রত্ব থাকতে হবে। ছাত্রলীগে যারা আসবে বা যারা ছাত্রলীগ করে তারা সবাই ছাত্র।’
ছাত্রলীগের গ্রুপিং সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বড় সংগঠন হওয়াতে অনেক সময় গ্রুপিং দেখা দেয়। তবে আমি সকল ধরনের গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে কাজ করতে চাই। এ ছাড়া দলের নেতাকর্মী সবাইকে সাথে নিয়ে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগকে শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজে লাগাতে চাই।’
তিনি কীভাবে ছাত্রলীগে এলেন বা কার অনুপ্রেরণা ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১০ শ্রেণিতে পড়াশোনাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হই। এরপর থেকে ছাত্রলীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রেখেই দলীয় সকল কর্মকাণ্ডে অংশ নিতাম।’
তিনি জানান, তার বাবা আলাউর রহমান একজন আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ওই ইউনিয়নেরই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে রুম্মান সবার ছোট। বড় ভাই মো. আবু জাকারিয়া সৌদি প্রবাসী। মেজ ভাই আবু আম্বিয়া লন্ডন প্রবাসী। এ ছাড়া তার আরেক ভাই হুসাইন ইয়াইয়া তামিম আমেরিকা প্রবাসী। আর তার একমাত্র ছোট বোন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করছেন।
তিনি জানান, তার মেজ ভাই আবু আম্বিয়া (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী) সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। আবু আম্বিয়ার অনুপ্রেরণায় তিনি ছাত্রলীগে আসেন। এরপর থেকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে রয়েছেন। তবে তার একটাই পরিকল্পনা ছিল, ছাত্রলীগ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া। আর ওই স্বপ্নকেই লালন করে আজ পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন রুম্মান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যাচাই না করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ খবর প্রকাশ করায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সিলেট আদালতে মামলা করেছিলেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের নেতা আব্দুল বাছিত রুম্মান।

