নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনীতির এক সময়ের দাপুটে খেলোয়াড় মির্জা আব্বাস। ঢাকার কমিশনার, মেয়র, এক পর্যায়ে দেশের মন্ত্রীও হয়েছেন। তবে এখন রাজনীতিতে তার তেমন উত্তাপ নেই। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বেশ কৌশলী ভূমিকায় রয়েছেন তিনি।
নেতাকর্মীর কাছ থেকে জানা গেছে, দলের কর্মসূচিতে মির্জা আব্বাস নিয়মিত অর্থ যোগান দিয়ে থাকেন। আত্মগোপনে থেকে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস গোটা নির্বাচন-পরিস্থিতি সামলান।
দলের নেতাকর্মীরা সহজে মির্জা আব্বাসের কাছে ভিড়তে পারেন না। তবে যারা তার অনুসারী, তাদের প্রতি আব্বাসের উদার মানসিকতা রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের নিজস্ব সিকিরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) আদলে তারও একটি সিকিউরিটি ফোর্স রয়েছে। শ্যুটেড বুটেড, ওয়াকিটকিসহ মনোমুগ্ধকার প্রটোকল। অনেকে রসিকতা করে একে আবার ‘আব্বাস সিকিউরিটি ফোর্স’ বা এএসএফ বলে থাকেন।
এদিকে, কারাগারে থাকার কারণে দলের বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে উপস্থিত থাকতে পারেননি মির্জা আব্বাস।
গত ৩ এপ্রিল বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিনে মুক্তিপান তিনি। তবে অসুস্থ থাকার জন্য এখনো হাসপাতাল ছাড়েননি তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাকে দেশের বাইরে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু জানান, মির্জা আব্বাস উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিকস, রক্তশূন্যতা, রেনাল আর্টারি, স্টেনোসিস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ওজন কমে যাওয়া ও হেপাটিক হিউম্যানজিওমাসহ বেশ কয়েকটি রোগে ভুগছেন।
মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চান। এজন্য বিএনপি বিটের কয়েকজন সংবাদকর্মীকে বারডেম হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের কক্ষে যাওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনজন সংবাদকর্মীকে বারডেমে ডেকে মোবাইল ফোনই বন্ধ করে রাখেন জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু। হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের কক্ষের সামনে গিয়ে দেখা যায়, গানম্যান, ড্রাইভারসহ এক তরুণী গল্প করছেন।
জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর বরাত দিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে দেখা করার কথা বললে তারা মিন্টুকে ফোন দিতে বলেন। মিন্টুর ফোন বন্ধ বলা হলে তারা সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ত্যাগের জন্য সেখান থেকে লিফটের দিকে এগিয়ে এলে মির্জা আব্বাসের একজন ব্যক্তিগত কর্মচারী সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘স্যার আপনাদের ডেকেছেন।’
পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর কথা বললে মির্জা আব্বাস জানান বিষয়টি তিনি জানতেন না। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সন্ধ্যার পর আমি কারো সঙ্গে কথা বলি না। তোমরা অন্য সময় এসো।’

