নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি এখন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন বর্জন করলে বাকি ধাপগুলোতে আওয়ামী লীগের পোয়াবারো হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
হান্নান শাহ বলেন, ‘অনেকে বলছেন, বিএনপির চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জন করা উচিত। বিএনপি যদি এখন নির্বাচন বর্জন করে তাহলে বাকি ধাপগুলোতে আওয়ামী লীগের পোয়াবারো হবে। সরকার তখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে বলবে, আগের নির্বাচনে (দুই ধাপ) যত গণ্ডগোল ও সহিংসতা হয়েছে-সেগুলো বিএনপি করেছে। আর এখন কতো ফরফুরা, ভাল নির্বাচন হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘প্রত্যেকটি নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করে এই সরকারের কুৎসিত-সন্ত্রাসী-গণবিরোধী চেহারা জনসম্মুখে নিয়ে আসবো। ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে, ভোট ডাকাত কারা? তারা ধানের শীষ ও জনগণের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যাচ্ছে। এই সরকারের কৃপায় আমরা দেখেছি- অন্য সময়ে ভোট জালিয়াতি হতো, দিনের বেলায় সিল মারা হতো। আর এখন দেখা যাচ্ছে, আগের রাতেই ভোট হয়ে যাচ্ছে। ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হচ্ছে। এই সরকারের এটিও একটি উপহার।’
খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে হান্নান শাহ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। কেন এসব মামলা দেয়া হচ্ছে? আমরা যাতে দুর্বল হয়ে যায় এবং তারা (আওয়ামী লীগ) টিকে থাকতে পারে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। কারণ, দেশবাসী জানে, এসব মামলার প্রত্যেকটি ভুয়া, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে বিরোধী দল দমনে ব্যস্ত। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে কিভাবে হেনস্থা করা যায়, এটি নিয়েই তারা ব্যস্ত। এ কারণে তারা সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
সরকারের উদ্দেশে হান্নান শাহ বলেন, ‘এখনো সময় আছে। দেশের সকল সঙ্কট সমাধান ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অতি শীঘ্রই সর্বদলীয় সভা ডাকুন। সেই সভায় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে একটি জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করুন, যাতে এই দেশে আর হানাহানি ও সহিংসতা না হয়।’
স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক এসকে সাদী, জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

