গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ইতোপুর্বে যারা সমাজসেবার দোহাই দিয়ে এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের হাত-পা ধরে ভোট ভিক্ষা করে নির্বাচিত হওয়ার পর মানুষের কাছ থেকে দূরে ছিলেন। শুধু নিজের ভাগ্য বদল করতে ব্যস্ত ছিলেন, তাদের মুখ আর দেখতে চান না।
পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বিএনপি জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ময়দান ফাঁকা রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। মামলা, পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে আড়ালে থাকার কারণে বিরোধী দলের পক্ষে প্রচারণার বিষয়টি শুধু পোস্টারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তাছাড়া অধিকাংশ নেতাকর্মীর নামে মামলা থাকায় বিএনপি গাইবান্ধা পৌর এলাকায় খুব বেশি ভালো অবস্থানে নেই। আবার অনেকেই কারাগারে আছেন। সে কারণে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। পৌর ভোট হবে যোগ্যতার বিবেচনায়। মিথ্যা আশ্বাসের কাছে পৌরবাসী আর নত হতে চান না। সে কারণে শুধু মেয়র প্রার্থী নয়, কাউন্সিলারদের ভাগ্য উন্নয়নের হিসাব তুলে ধরার দাবি জানান। ভোটারদের প্রত্যাশা যারা নিজেদের ভাগ্য বদল করে চকচকে হয়েছেন তাদের হিসাব হবে ভোটের বাক্সে।
গত কোরবানির ঈদের আগে থেকেই ভোটের প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে জানান দেন ভোটের মাঠে। গাইবান্ধার পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচন সামনে রেখে তৎপরতা শুরু করেছেন। গাইবান্ধা পৌরসভার আগ্রহী প্রার্থীরা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি দলীয় সমর্থন নিশ্চিতের জন্য নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের আশীর্বাদ লাভেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।
শুরুতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করলেও সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় নির্বাচনের প্রচারণার ধরন এবং পৌরসভার নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ইতোমধ্যে অনেকটাই বদলে গেছে।
প্রার্থীরা পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং ভোটাররেদ বাড়ি বাড়ি ছুটছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাড়া-মহল্লার ঘরোয়া ও চায়ের দোকানের আড্ডায় ছড়িয়ে গেছে নির্বাচনী আমেজ। কোনো কোনো প্রার্থীও বিভিন্ন স্থানে আড্ডায় অংশ নিচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত গাইবান্ধা পৌর মেয়র হিসাবে সম্ভাব্য প্রার্থী ১১ জনের নামে শোনা যাচ্ছে এবং শহরে তাদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে দেয়াল। তবে দলের বাইরেও অনেকেই প্রার্থী হিসাবে সমাজকর্মী হিসাবে নিজেকে জাহির করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন।
গাইবান্ধা পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন বর্তমান মেয়র মো. শামছুল আলম এবং গত পৌর নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ছানা।
এছাড়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. পিয়ারুল ইসলাম, জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম লাছু, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. ফারুক আহম্মেদ, বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. গাওছুল আজম ডলার, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ারুল হাসান সবুরের ভাই মো. আনোয়ার-উল সারওয়ার সাহিব, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিপিবি নেতা হাজী মির্জা হাসান, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও জেলা মহিলা পরিষদের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সরদার রোকোনুজ্জামান পলাশ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহম্মদ জাহিদুর রহমান সুজন।
জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নাম শোনা যাচ্ছে অধ্যাপক ফেরদৌস আহম্মেদের। এক সময়ের জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ পৌরসভায় জাপার কোনো প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। জাসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ মনার নামে পোস্টার লাগানো হলেও তিনি মাঠে নেই। কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদসহ বাম সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এখনও পৌর নির্বাচনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশনা তিনি পাননি।’
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাওসুল আজম ডলার জানান, তাদের প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।’ জেলা জাসদের সভায় দলীয় প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে বাছাই করা হয়নি।

