স্বাস্থ্য ডেস্ক : দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে কিংবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তবে যে রোগ হয় তাকে ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ বলে। এসময় রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতি জনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ইনসুলিন, যার সহায়তায় দেহের কোষগুলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে নিতে সমর্থ হয়। একে শক্তির জন্য ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন উৎপাদন কম বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা না থাকলে রক্তে গ্লুকোজ বাড়তে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে দেখা দেয় নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে। তাই নিজেকে এসব ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে জেনে নিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু উপায়।
সঠিক খাবার
অন্যান্য খাবার খাওয়ার আগে পেট ভরে সবুজ শাক সবজি ও সালাদ খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আরিজোনাস্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় টাইপ-২ তে দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগী বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সমস্যায় ভুক্তভুগীরা খাবার খাওয়ার আগে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার খেয়ে নিলে রক্তের সুগার কমে আসে। ভিনেগারে আছে অ্যাসেটিক অ্যাসিড। ভিনেগার শ্বেতসার পরিপাক করার এনজাইম নিষ্ক্রিয় করে। ফলে শ্বেতসার পরিপাক হয় ধীরে।
পর্যাপ্ত হাঁটা
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বা দিনে ৩৫ মিনিট হাঁটেন তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমেছে ৮০ শতাংশ। ওজন না কমিয়েও কেবল হেঁটে এটা করা সম্ভব। ব্যায়াম করলেও দেহকোষের ইনসুলিন রিসেপটারের সংখ্যা বাড়ে। এতে শরীরে হরমোন ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন রক্তের সুগারকে কোষের ভেতর ঢুকতে সাহায্য করে। শরীর গ্লুকোজ দহন করে পায় শক্তি ও পুষ্টি। তাই সুস্থ থাকা অবস্থাতেও পারতপক্ষে যানবাহনে কম চলুন, বেশি হাঁটুন।
সঠিক শস্যদানা গ্রহণ
সঠিক খাদ্যশস্য বেছে নিলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ। নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তের সুগারও। গোটাদানাশস্য বেশি খেলে স্তন ক্যানসারের হার কমে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসে। তাই যব, ভুট্টা, গম, আটা, ঢেকিছাটা চাল, ব্রাউন সুগার, কর্ন সিরাপ, ডেক্সট্রোজ ও চিনিসমৃদ্ধ খাদ্যশস্য দেহের জন্য ভালো।
কফি পান
হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ গবেষণায় দেখা গেছে দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ ব্লাক কফি ২৯ থেকে ৫৪ শতাংশ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন উজ্জীবিত করে বিপাক। ক্যাফেইনের বড় উৎস আছে কফিতে। এছাড়াও এর পটাসিয়াম, ম্যাগনোসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, গ্লুকোজ শোষণে সহায়ক।
ফাস্টফুডকে ‘না’
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ১৮ থেকে ৩০ বছরের ৩ হাজার লোকের উপর ১৫ বছর গবেষণা করে দেখেছেন, নিয়মিত ফাস্টফুড খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আকাশচুম্বি। তাই সুস্থ থাকতে আপনার করণীয় অবশ্যই স্পষ্ট।
চিন্তামুক্ত থাকুন
যারা নিঃসঙ্গ থাকেন তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আড়াই গুন বেশি। পরিবার পরিজন নিয়ে থাকা নারীদের এ তুলনায় ঝুঁকি কম। পুরুষদের ক্ষেত্রেও তা সমভাবে প্রযোজ্য। তাই সৎ সঙ্গে হাসিখুশি থাকুন সব সময়।

