স্বাস্থ্য ডেস্ক : প্রথমেই বলি মাইগ্রেন আসলে কী? মাইগ্রেন এক ধরনের মাথাব্যথা। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, মাথাব্যথা মানেই কিন্তু মাইগ্রেনের ব্যথা নয়। মাইগ্রেন কথাটির অর্থ বলতে পারেন আধা মাথা ব্যথা। কীভাবে বুঝবেন মাইগ্রেন? মাইগ্রেনে প্রচণ্ড মাথাব্যথার সাথে বমিও হতে পারে। এছাড়া চোখ অস্বচ্ছ দেখা, চোখের সামনে ছোট ছোট আলোর বিন্দু দেখা, বমি বমি ভাব, মাথার ভিতরে ধপ ধপ করা ইত্যাদি লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনিও এই বিরক্তিকর সঙ্কটে পড়েছেন।
মাইগ্রেন মাথাব্যথার সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত সেভাবে জানা যায়নি। তবে বলা হয়ে থাকে যে, ব্রেনের ভিতরে রক্তবাহী নালীগুলো কোনো কারণে সঙ্কুচিত হয়। এটা হলে মস্তিস্কে রক্ত চলাচলের তারতম্যের জন্যই এই প্রচণ্ড ধপ ধপ করে মাথাব্যথা শুরু হয়। বমি না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যথা কমে না। মাইগ্রেন মাথাব্যথা একবার শুরু হলে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত একাধারে চলতে পারে।
আপনার মাইগ্রেন আছে? এ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন ঘরোয়া পদ্ধতিতেই। তবে জেনে নিন মাইগ্রেনে স্বস্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায়। যদিও মাইগ্রেন ব্যাপারটা সম্পূর্ণ জেনেটিক। এর কোনো চিকিত্সা সেভাবে নেই। তবু যন্ত্রণার সময় কিছুটা আরাম দিতে পারে এই সব ঘরোয়া জিনিস।
১। ল্যাভেন্ডর অয়েল- ল্যাভেন্ডর অয়েলের শ্বাস নিলে মাইগ্রেনের যন্ত্রনায় আরাম পাওয়া যায়। জল ফোটান। প্রত্যেক দুই-তিন কাপ গরম জলে দুই থেকে তিন ফোঁটা ল্যাভেন্ডর অয়েল দিয়ে সেই জলের বাষ্প শ্বাস ভরে নিলে মাইগ্রেনের যন্ত্রনা উপশম হয়।
২। পেপারমিন্ট অয়েল- এই তেল ল্যাভেন্ডর অয়েলের মতো জলে মিশিয়ে হালকা করার প্রয়োজন পড়ে না। পেপারমিন্ট অয়েলের শিশি খুলে নাকের কাছে ধরে সরাসরি শ্বাস নিন।
৩। মাসাজ- আঙুলের ডগার হালকা চাপে মাথার তালু মাসাজ করতে তাকুন। মাসাজ করতে করতে মাথার মাঝখান থেকে পিছনে ঘাড়ের দিকে নামতে থাকুন।
৪। ভিনিগার- তিন কাপ ফুটন্ত গরম জলের মধ্যে কাপ কাপ ঠান্ডা জল, ১/৪ কাপ ভিনিগার মিশিয়ে নিন। এই জলের বাষ্পের শ্বাস ভরে নিন।
৫। মাথায় ছান্ডা কিছু দিয়ে রাখুন। কোনও কোল্ড ব্যাগবা ছান্ডা জলে ভেজা রুমাল দিয়ে জলপট্টি দিন।
৬। আদা জল- জলের মধ্যে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে সেই জল আস্তে আস্তে পান করুন। যন্ত্রনা কমবে।
৭। অন্ধকার- ঘরের আলো নিবিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকুন। আলোয় থাকলে মাইগ্রেন বাড়ে। যেখানে আওয়াজ বেশি সেখান থেকে সরে আসুন।
এছাড়া যাদের মাইগ্রেন আছে, তাদের ভালো ঘুম নিশ্চিত করা দরকার। প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। যেসব খাবার খেলে ব্যথা শুরু হতে পারে—যেমন কফি, চকলেট, পনির, আইসক্রিম, অ্যালকোহল ইত্যাদি বাদ দিতে হবে। বেশি সময় না খেয়ে থাকা যাবে না। জন্মবিরতিকরণ ওষুধ সেবন না করাই ভালো। প্রয়োজনে অন্য পদ্ধতি বেছে নেয়া যেতে পারে। পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও দীর্ঘ ভ্রমণ বর্জনের মাধ্যমে মাইগ্রেন অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

