ঢাকাSaturday , 28 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁদপুর ৫ পৌর নির্বাচন
ভোটারদের আগ্রহ নেই

Link Copied!

electionচাঁদপুর প্রতিনিধি : আসন্ন পৌর নির্বাচন নিয়ে চাঁদপুরের সাধারণ ভোটারদের মাঝে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাচন ও চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারায় পৌর নির্বাচনের আগ্রহ হারিয়েছে তারা।
মেয়র পদে দলীয় মনোনিতরা ও কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হলেও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করছেন সাধারণ জনগণ। সরকার দলীয় সমর্থকদের ভয়ে কেউই মুখ খুলতে চান না। কেউ কথা বললেও নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছেন।
কারণ হিসেবে তারা বলছেন, যেসব পৌর এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেসব এলাকার সংসদ সদস্যরা বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। ফলে যেভাবেই হোক পৌর নির্বাচন তাদের পক্ষে নিতে তারা মরিয়া হয়ে উঠবেন।
এদিকে পৌর নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটার বা বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো আমেজ না থাকলেও ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা রয়েছেন দৌঁড়-ঝাপের মধ্যে। তারা জেলার প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে মনোনয়ন প্রাপ্তির আশার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন। তারা শুধু ‘দলীয় মনোনয়ন পেলেই নির্বাচিত হবেন’ এই আশায় সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, মতলব, ছেঙ্গারচর, ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় শাহরাস্তি পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি কমিশন। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। তফসিল অনুযায়ী ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই এবং ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
তফসিল ঘোষিত ৫ পৌরসভার মধ্যে ৪টিতে বর্তমানে নির্বাচিত মেয়র পদে রয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা হলেন- হাজীগঞ্জের আব্দুল মান্নান খান বাচ্চু, কচুয়ায় হুমায়ুন কবির প্রধান, ফরিদগঞ্জে মঞ্জিল হোসেন ও মতলবে এনামুল হক বাদল। একমাত্র ছেঙ্গারচরে পৌর মেয়র হিসেবে রয়েছেন আ’লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম জর্জ।
হাজীগঞ্জ পৌরসভা: চাঁদপুর পৌরসভার পর প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয় হাজীগঞ্জ। গত দুই মেয়াদে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান খান বাচ্চু মেয়র নির্বাচিত হন। এবারও তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ হাজীগঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি এ নেতা ইতোমধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। মেয়র পদে আবদুল মান্নান খান বাচ্চু ছাড়াও বিএনপি নেতা ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারী ও ইমাম হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গাজী মো. মাঈন উদ্দিন, মাহবুবুল আলম লিপন ও মো. আহসান হাবিব অরুণের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী খায়রুল আলম পারভেজও মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম স্থানীয় সংসদ সদস্য হলেও বিগত উপজেলা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. মো. শামছুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে কেন্দ্রদখলসহ ভোট জালিয়াতি হয়। ফলে এবারও পৌর নির্বাচনে ভোটাররা ড. মো. শামছুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ভোট ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করছেন।
মতলব পৌরসভা : গত পৌর নির্বাচনে বিএনপি নেতা এনামুল হক বাদল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয় সেটাই দেখার বিষয়। বিএনপি থেকে বিল্লাল হোসেন মৃধা ও মো. শাহগিয়াসও প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম গিয়াস উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু ও মো. আওলাদ হোসেন লিটন মেয়র পদে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নিজ এলাকার পৌরসভা হওয়ায় মতলবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে যেভাবে হোক জিততে হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা। তবে সুষ্ঠু ভোট হলে এনামুল হক বাদলের এবার মেয়র নির্বাচিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
ছেঙ্গারচর পৌরসভা : পৌরসভা গঠিত হবার পর প্রথম নির্বাচনে বিএনপি নেত্রী আমেনা বেগম বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় নির্বাচনে আ’লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম জর্জ নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দু’জনে এবারও নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া বিএনপি থেকে খোরশেদ আলম মোল্লা ও উজ্জল ফরাজী এবং আওয়ামী লীগ থেকে আইয়ুব আলী ও রুহুল আমিন মোল্লা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বাড়ি এ পৌরসভায় হওয়ায় তিনি যাকে চাইবেন তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে এবং সেই নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভা: পৌরসভা গঠিত হবার পর বিএনপি নেতা মঞ্জিল হোসেন নির্বাচিত হন। এবারও তিনি প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তিনি ছাড়াও বিএনপি নেতা সফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী ও মজিবুর রহমান দুলাল বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল আমিন কাজল ও মাহফুজুল হকের নামও শোনা যাচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. মো. শামছুল হক ভূঁইয়া এমপির নিজ উপজেলা হওয়ায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেয় তিনিই মেয়র হবেন বলে সাধারণ মানুষরা ধারণা করছেন। ফলে বিএনপির একচ্ছত্র ঘাটি হিসেবে পরিচিত ফরিদগঞ্জে সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়ী হবেন, এটা নিশ্চিত।
এ পৌর এলাকার কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তারা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট চান। তবে স্থানীয় অনির্বাচিত এমপি যেভাবে চর দখলের মতো সব দখল করে রেখেছেন তাতে নির্বাচন কতোটা সুষ্ঠু হবে তা ভাববার বিষয়।
কচুয়া পৌরসভা: কচুয়া পৌরসভা গঠিত হবার পর মেয়র পদে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির প্রধান দু’বার নির্বাচিত হন। এবারও তিনি প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপি নেতা আবু তাহের ভেণ্ডারও নির্বাচন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আহসান হাবিব প্রাণজল, আহসান হাবিব প্রধান ও নাজমুল আলম স্বপনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নিজ এলাকা হওয়ায় ভোটাররা আতঙ্কিত। ভোটের সময় তিনি প্রভাবান্বিত না করলে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থীর জয়ী হবার সম্ভাবনা বেশি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে এবং চলতি বছর চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে শাসক দলের প্রার্থীদের পক্ষে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র হামলায় সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট দিতে পারেনি। কেউ এর প্রতিবাদ করলে সেখানেই তাকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকরাও কেন্দ্রে গিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় অস্ত্রধারীদের হুমকির মুখে পড়েন। ফলে আসন্ন পৌর নির্বাচনে একই আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে জেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রার্থীদের অগ্রিম শুভেচ্ছা সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার, প্লেকার্ড অপসারণ করতে শুরু করেছে।  ইতোপূর্বে ওই সব পোস্টার, ব্যানার, প্লেকার্ডে প্রার্থীরা এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। তবে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা এখন নেতাদের সমর্থন পাবার আশায় তাদের দোয়া কামনা করতেই ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে।