ঢাকাWednesday , 25 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নেতাদের মন জয়ে ব্যস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

Link Copied!

sirajgonjসিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে হওয়ার ঘোষণায় ভোটারদের নয় বরং দলের হাইকমান্ডের মন জয়ে মাঠে নেমেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
নিজ নিজ পৌর এলাকায় জনসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতা, স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রীদের মন জুগিয়ে চলার চেষ্টায় কৌশলী সময় কাটাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা।
সিরাজগঞ্জের ছয়টি পৌরসভায় আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে কয়েক মাস আগ থেকেই প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক নেতা। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে যে যার মতো লবিং করে যাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিতরাও তৎপর কয়েকটি পৌরসভায়। তবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মাঠে নামার প্রবণতা এখনও দেখা যাচ্ছে না। তবে ব্যানার, পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাদের পক্ষে প্রচার চলছে।
গত রোজার ও কোরবানির ঈদ ও সদ্যসমাপ্ত পূজাকে কেন্দ্র করে তফসিল ঘোষণার আগেই জনসমর্থন বাড়াতে উভয় দলের পদপ্রত্যাশী নেতারা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা ফেসবুক ও ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন।
সিরাজগঞ্জ: প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান, সাবেক চেম্বার প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি ইসহাক আলী।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের আভাস দিয়েছেন জেলা কমিটির একাধিক নেতা। তারা হলেন- নাশকতার মামলায় কারাবন্দি সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোকদ্দেছ আলী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুন্সি কামাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেম্বার পরিচালক সাইদুর রহমান বাচ্চু। এছাড়া তালিকায় আছেন সাবেক মেয়র ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নুর-ই-আলম হেলাল।
কাজিপুর: সিরাজগঞ্জের কাজীপুর পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলীয়ভাবে নির্বাচনের ঘোষণা আসায় এবার প্রার্থিরা ভোটারদের কাছে যেমন শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য যাচ্ছে তেমনি টিকিট পাবার আশায় দলের সিনিয়র নেতাদের কাছেও এখন থেকেই ধরণা দিচ্ছেন।
আ.লীগের দূর্গ খ্যাত কাজীপুর পৌরসভার নির্বাচনী আমেজ অন্যান্য নির্বাচনী এলাকা থেকে এমনিতেই একটু আলাদা। ২০০০ সালের গঠিত এই পৌরসভার বেশীর ভাগ প্রার্থী আওয়ামী লীগ ঘরনার। কাজীপুরের জনপ্রিয় নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও তার ছেলে সাবেক সাংসদ তানভীর শাকিল জয়ের মতামতের বাইরে নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তার ফলাফল খুব সুবিধার হয় নাই। তারপরেও ইতোপূর্বে দু’একজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছেন। কিন্তু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণায় অনেক প্রার্থী বিপাকে পড়েছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হাজি নিজামউদ্দিন, সাবেক মেয়র জিএম তালুকদার, পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও গান্ধাইল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বিএসসি, সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান তালুকদার। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আব্দুস সালাম ও বিয়াড়া গ্রামের আল-আমিনের নাম শোনা যাচ্ছে।
বেলকুচি: বেলকুচি পৌর এলাকায় পোস্টার ও ব্যানারে আসন্ন নির্বাচনে নিজ নিজ দল থেকে মেয়র পদে আগাম প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাসের স্ত্রী, ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশানুর বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রতন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন প্রামাণিক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মফিজ উদ্দিন লাল খাঁ, পৌর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক মণ্ডল ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম সোহেল।
রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ পৌরসভা নির্বিাচনে সম্ভাব্য মেয়র পদে জামায়েতের একক প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় উভয় দলেই প্রার্থী জটলা রয়েছে। দলীয় টিকিট প্রাপ্তির জন্য মেয়র প্রার্থীরা ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ পৌরসভা থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আফসারুল আলম খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল পাঠান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম, জামায়াত সমর্থিত বর্তমান মেয়র মোশারফ হোসেন আকন্দ, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক পৌর প্রশাসক নুর সাঈদ সরকার।
উল্লাপাড়া: আসন্ন উল্লাপাড়া পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে মেয়র পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের হাই কমান্ড এবং তৃণমূল নেতাদের মন জয় করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উভয় দলের প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরাও বসে নেই। দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফয়সাল কাদির রুমি, উল্লাপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর আহসান আলী সরকার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর এসএম নজরুল ইসলাম ও পৌর আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) এসএম আমিরুল ইসলাম আরজু, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রিবলী ইসলাম কবিতা, উপজেলা জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মাহমুদ মাসুম, উল্লাপাড়া বাজার-বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান কাঁকন ও বিএনপি থেকে উপজেলা কমিটির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র বেলাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন।
শাহজাদপুর: পৌর নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নির্বাচনী হাওয়া বইছে শাহজাদপুরে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রথম শ্রেণীর শাহজাদপুর পৌরসভা। তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এই পৌরসভার সম্ভাব্য একাধিক মেয়র প্রার্থী গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এরা হলেন-জেলা কৃষক লীগের সদস্য ও সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ভিপি আব্দুর রহিম, বর্তমান মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পরিবহন নেতা নজরুল ইসলাম, শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম হাবিবুর হক সাব্বির, সিরাজগঞ্জ জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান তুহিন, যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সাবেক যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান ফারুক।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. শাহিনূল আলম পৌর নির্বাচন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, যেকোনো নির্বাচনের ব্যাপারে তারা কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে তাদের মতামত নেয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি।’
সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আবু মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদে দলভিত্তিক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এখনও কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসেনি। তবে অনেকেই আগাম প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। দলীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।