স্বাস্থ্য ডেস্ক : ভারতবর্ষে প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। তরকারির রঙ বাড়াতে এবং রূপচর্চায় এর ব্যবহার বেশি হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হারে হলুদের ব্যাবহার হচ্ছে। এটি মূলত একটি মসলা জাতীয় দ্রব্য। শতকের পর শতক ধরে এই মসলা মানবদেহে উপকারী বৈশিষ্ট্য রাখার জন্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় নিয়ে বেড়িয়ে এসেছে আরও অনেক চমকপ্রদ তথ্য। দীর্ঘ পরিচিত হলুদ অ্যালঝেইমার অসুখ, ক্যানসার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য অত্যান্ত উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আজ জেনে নেব আমাদের কাছে হলুদের অচেনা সব গুণ সম্পর্কে…
* কাঁচা হলুদ একটি প্রাকৃতিক এন্টিসেপ্টিক। কাঁটাছেড়া এবং পোড়া জায়গায় হলুদ বাটা লাগালে দ্রুত ব্যথা এবং দাগের উপশম ঘটে।
* তরকারিতে হলুদের ব্যাবহার প্রস্টেট ক্যানসারের বৃদ্ধি রোধ, স্তন ক্যানসার প্রতিরোধকারী ও অন্ত্রের ক্যানসার নিরাময়কারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
* আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াতে দায়ি মেলানোমা কোষ রোধে হলুদ দারুণ কাজ করে।
* শিশুদের লিউকেমিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
* হলুদের প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য বাত এবং ফোলানো বাত এর জন্য একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে পরিগণিত হয়*।
* হলুদ কেমো ড্রাগ এর প্রভাব এবং তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হ্রাস করে।
* গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদ অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার উপশমে চমৎকার কাজ করে।
* হলুদ বেটে ঘিয়ে দিয়ে ভেজে চিনি মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন খেলে ডায়াবেটিসে উপশম ঘটে।
* এটি চর্বি বিপাকে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
* দীর্ঘ বিষণ্ণতা কাটাতেও হলুদের উপকার উল্লেখ করার মতো।
* যেকোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, র্যাশ, চুলকানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
* সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ দেয় হলুদ। কাশি কমাতে হলে হলুদের রস খেয়ে নিন কয়েক চামচ, কিংবা এক টুকরো হলুদের সঙ্গে মধু মাখিয়ে তা মুখের মাঝে রেখে আস্তে আস্তে চুষতে পারেন। এছাড়া এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে হলুদের গুঁড়ো, সামান্য মাখন এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। কয়েকবার সেবনেই সর্দি কাশি দ্রুত নিরাময় হবে।
* হলুদের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি নানা পদার্থ রয়েছে। তাই হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
* প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে দুধের সঙ্গে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে, ধীরে ধীরে ত্বকের জেল্লা বাড়তে থাকে।

