ঢাকাThursday , 25 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জমেছে পশুরহাট, দেশি গরুর চাহিদা

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 25, 2014 11:08 am
Link Copied!

Cow-Marketচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুহাটগুলো জমে উঠেছে। হাটগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় গরু ব্যবসায়ীদের লাভের মুখ দেখার আশার সঞ্চার করেছে। দেশি জাতের গরুর আমদানি বেশি হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতারা ঝুঁকছেন সে দিকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বড়বড় পশু হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে দেশি গরুর দাম বেশি হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা এবার লাভের আশা করছেন। পাশাপশি গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবারের কোরবানির ঈদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে গরুর দাম বাড়তি রয়েছে।
গত বছর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু প্রবেশ করলেও এবার চিত্র ভিন্ন। বিএসএফের কড়াকড়ির কারণে এবার ভারতীয় গরুর আমদানি কম হলেও বাড়ি ও খামারে পালন করা গরু যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে প্রতিটি হাটে। তবে, ভারত থেকে আসা কিছু বড় আকৃতির গরুগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।
শিবগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, হাটে দেশি গরু তুলতে পারলেই বিক্রি নিয়ে আর কোনো ভাবনা থাকে না, কেন না চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার হাটগুলোতে বরাবরই দেশি গরুর চাহিদা থাকে। জেলার সর্ববৃহৎ গরুরহাট হিসেবে পরিচিত শিবগঞ্জের তক্তিপুর, নাচোলের সোনাইচণ্ডি, নবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বটতলাহাট।
এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটগুলোতে দেদারসে গরু বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। হাটগুলো হলো- শিবগঞ্জের মনাকষা, আড়গাড়া, বিনোদপুর, কানসাট, রহনপুর, মল্লিকপুর ও রামচন্দ্রপুর। গত ১৫দিন থেকে এ হাটগুলো জমতে থাকে। দেশের দূর-দূরান্ত  থেকে পাইকার ও ব্যাপারিরা এসব হাটে এসে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
তক্তিপুর ও বটতলাহাট ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগে হাটগুলোতে গরুর তুলনায় ছাগল বিক্রি বেশি হচ্ছিল। আর সেই সুযোগে ছাগলের দামও বেড়ে যায়। তবে শেষ মুহূর্তে মানুষ গরু কেনার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
বটতলাহাটের গরু ব্যবসায়ী মোজাম্মেল মাস্টার জানান, চলতি সপ্তাহে হাটগুলোতে দেশি গরুর চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে ভেসে উঠেছে লাভের আশা।
হাটগুলোতে বড় সাইজের গরু ৬৫-৯০ হাজার, মাঝারি ৪০-৫০ হাজার, ছোট ২৫-৩৫ হাজার এবং ছাগল ৫-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। জেলার সীমান্তের হাটগুলোতে তেমন ভারতীয় গরু নামেনি। তবে মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাকভর্তি গরু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবার পথে চাঁদাবাজী অব্যাহত রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার রানিহাটি পশুর হাটটি ছাগল বিক্রির বড়হাট হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহে ২ দিন অর্থাৎ শনিবার ও বুধবার এ হাটটিতে প্রায় কয়েক হাজার ছাগল আমদানি হয়।
ঢাকা থেকে আসা ছাগল ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম জানান, গতবারের তুলনায় এবার ছাগলের দাম থাকলেও নির্বিঘ্নে ছাগল কিনতে পারছি। এ হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাগল কিনতে আসা ব্যপারীরা ভিড় জমায়।
এদিকে দেশি গরুর স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাগজ-পত্র থাকার পরও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অহেতুক হয়রানির বিষয়ে খোদ স্থানীয় সাংসদের ক্ষোভ প্রকাশ এবং এব্যাপারে তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জাফর সেখ মোহাম্মদ বজলুল হক জানান, ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যাপারে তাদের কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তবে কাস্টমস করিডোরের গরু প্রতি ৫শ টাকা শুল্ক প্রদান করে আসলে বিজিবি সেসব গরু আটক করছে না।
তবে, অনেক সময় দেশি গরুর ক্ষেত্রে ছোট আকারের ভারতীয় গরু সনাক্তকরণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি রাখাল হত্যা, নির্যাতনের একাধিক ঘটনা ঘটায় এবার ঝুঁকি নিয়ে ভারতে গরু আনতে আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকে।