বরগুনা প্রতিনিধি : জোয়ারের পানিতে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রতিদিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ জোয়ারের পানিতে ভাসছে।
জেলার বুড়িশ্বর, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পানির চাপে পাথরঘাটার পদ্মা, রুহিতা ও জ্বিনতলার বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে প্রায় ১০টি গ্রাম। গ্রামগুলো হচ্ছে পদ্মা, রুহিতা, জ্বিনতলা, বাদুর তলা, কোরালিয়া, নিজ লাঠিমারা, ছোট টেংরা, গাববাড়ীয়া।
এছাড়া বেতাগী উপজেলায় বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে ঝোঁপখালী, ভোলানাথপুর, জগাইখালী, কালিকাবাড়ী, গাবতলী, আলিয়াবাদ, জোয়ার করুনা ও গ্রেমর্দন এলাকা জোয়োরের পানিতে তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধের বাইরে নিম্নাঞ্চল তালতলীর খোটটার চর, নলবুনিয়ার চর, আশার চর, তেতুল বাড়ীয়ার চর ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে, জোয়ারের পানিতে লবণ থাকায় বেশ কিছু এলাকার ক্ষেতের ফসল নষ্ট হচ্ছে আর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে চাষীদের মাছের ঘের।
পদ্মা গ্রামের আবদুল মান্নান মাঝি জানান, গত সিডরে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ না করে নামমাত্র সংস্কার করায় প্রতি বছর বাঁধ এভাবে ভেঙে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে আমাদের সাজানো গোছানো সংসার।
একই গ্রামের রফিকুল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘নামমাত্র সংস্কার করলে যা হয়। ঠিকাদার প্রতিবার নামমাত্র বেড়িবাঁধ দিয়ে যায়। যা আবমস্যা বা পূর্ণিমার জোয়ার এলেই আবার ভেঙে যায়।’
ক্ষতিগ্রস্ত সাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, যা সম্বল আছে, তা প্রতিবছর জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।’
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শহিদুল ইসলাম জানান, জোয়ারে পানির চাপ বেশি থাকায় পাথরঘাটার পদ্মা ও রুহীতা এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বেশ কিছু এলাকায় ভাঙা বেড়িবাঁধ সঠিকভাবে সংস্কার না হওয়ায় এসব এলাকা থেকেও পানি ঢুকে পড়ছে বিভিন্ন লোকালয়ে। তবে পদ্মা, রুহীতা ও জীনতলার বেড়িবাঁধ সংস্কার করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই এসব বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম জানান, পাথরঘাটার পদ্মা গ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে ৮০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১ কেজি চিড়া, ১ কেটি চিনি ও ১ কেজি করে মুড়ি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জিআর এর চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বেড়িবাঁধের স্থায়ী সামাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

