ঢাকাSaturday , 20 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদকে সামনে রেখে মাঠে অপরাধী চক্র

Link Copied!

Craimeনিজস্ব প্রতিবেদক : বারবরের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে রমজান মাসে তৎপর হয়ে উঠেছে মৌসুমি অপরাধীরা। সম্প্রতি ডিবি পুলিশের হাতে বেশকিছু সংখ্যক অজ্ঞান পার্টি, জাল টাকার কারবারি, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, ভুয়া ডিবি পুলিশ আটকের ঘটনা অপরাধীদের তৎপরাতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে মৌসুমি অপরাধীদের দমনে তিন ধাপে বিশেষ টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে পুলিশ। শুধু রমজানের সময়ই নয় ঈদের ছুটিতেও তৎপর থাকে অপরাধী চক্র। তাই রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে থেকে ঈদের ছুটিকালীন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ১৩ জুন রাজধানীর কাফরুল থেকে ৪০ লাখ জাল টাকাসহ ৬ জনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশ। এদের দলনেতা হাওলাদার সোহেল পুলিশকে জানায়, দুই ঈদকে সামনে রেখে তারা জাল টাকা তৈরি করে। ইতিমধ্যে তারা ৬০ লাখ জাল টাকা বাজারে ছড়িয়েও দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত জাল টাকা তৈরির কাগজ ও সরঞ্জাম দিয়ে ৫ কোটি জাল টাকা তৈরি হতো। হাওলাদার সোহেল এর আগেও দুইবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে সে একই অপরাধে যুক্ত হচ্ছে।
একই দিনে র‌্যাবও সায়দাবাদ থেকে পৌনে তিন লাখ জাল টাকাসহ দুই জনকে আটক করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরকম ২/১টি চক্রকে ধরতে পারলেও জাল টাকা তৈরির অনেকগুলো চক্র সক্রিয় আছে রাজধানীসহ সারাদেশে।
ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন রাজধানীতে। আর তদেরকে টার্গেট করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। গত ২৭ মে নরসিংদি থেকে ঢাকায় কাপড় কিনতে এসে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন মহিউদ্দিন ও হারুনুর রশিদ নামে দুই ব্যবসায়ী। দুর্বৃত্তরা তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী নেতা হেলাল উদ্দিন খান জানান, রমজানসহ ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে সারাদেশে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার লেনদেন হয়। বিপুল পরিমান এই অর্থের লেনদেনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে তৎপর হয়ে উঠে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী চক্রগুলো। এসব চক্রের মধ্যে আছে জাল টাকার কারবারী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, পকেটমার, ভুয়া ডিবি, মলমপার্টি, টানাপার্টি, অজ্ঞানপার্টি, গ্রিল কাটা চোর চক্র, ডাকাত, হাইওয়ে ডাকাত দলসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীচক্র।
এদিকে গত ১৭ জুন ডিবির বিশেষ টিম রাজধানীর যাত্রাবড়ী, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্ট এলাকা থেকে অজ্ঞান/মলম পার্টির ২১ সদস্যকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে অজ্ঞান করার বিভিন্ন ওষুধও উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দ সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ও এর আশপাশে ১০/১২টি অজ্ঞান পার্টি রয়েছে। সাধারণত সায়দাবাদ, যাত্রবাড়ী, গুলিস্তান, গাবতলী, ফুলবাড়িয়া, কাওরান বাজারে এদের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। গত ঈদ-উল আযহার সময় রাজধানীতে ৪৫০ ব্যক্তি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এদের মধ্যে কলেজ ছাত্র সোহাগ ও সোলেমান খান নামে এক ট্রেন চালক মারা যান।
ঈদকে সামনে রেখে বেড়ে যায় চাঁদাবাজদের উৎপাতও। সারা বছর এদের তৎপরতা থাকলেও ঈদ উপলক্ষে ১৫ রোজার পর থেকে বাড়তে থাকে তাদের ‘কার্যক্রম’। কারাগারে বন্দী কিংবা বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে ছাড়া পেয়েছে এরকম বেশকিছু সন্ত্রাসী ইতিমধ্যেই চাঁদাবাজি শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে। এদের মধ্যে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাৎ ও কারাবন্দী আব্বাসের ঘনিষ্ট সহযোগী মিরপুর-পল্লবী এলাকার মাহাবুব আলী টিংকু ওরফে বিহারী টিংকু, রুবেল, সুমন, জহির, গলাকাটা বাবু, লিটন, রইস সুমন অর্ণব অন্যতম।
রমজান মাস এবং ঈদে রাজধানীসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা দিতে গত ১১ জুন পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ প্রধান আইজিপি এ কে এম শহিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেও মৌসুমি অপরাধীরে প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ৮ রোজার পর থেকে ঈদের ছুটি পর্যন্ত পুলিশ হেডকোয়ার্টাস এবং প্রতিটি জেলা ও ইউনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে। ছিনতাইকারী, পকেটমার, অজ্ঞান/মলম পার্টির দৌরাত্ম প্রতিরোধে প্রতিটি বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট এবং রেল স্টেশনে থাকবে বিশেষ পুলিশ টহল।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, ঈদকে সামনে রেখ সাধারণত প্রতি বছরই জাল টাকার কারবারি, অজ্ঞান ও মলম পার্টির মতো অপারাধীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। মৌসুমী এসব অপরাধীদের রোধ করতে এবার রোজা শুরুর পূর্বেই অভিযানে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। তিনটি ধাপে এসব অভিযান চলবে। রমজান মাস শুরুর আগে, রমজান মাসের মধ্যবর্তী সময়ে এবং সুবিধামত আরেকটি সময়ে এসব বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে। এজন্য বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে।