আবুল হায়াত বাচ্চু, সাভার : রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার গাজিরচট এ.এম. স্কুল এন্ড কলেজের ৫.১৬ একর জমি সরকারি দপ্তরকে দখল করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির নামে মিথ্যে মামলার প্রতিবাদে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, সর্বস্তরের জনগনের অংশগ্রহনে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মনববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে এ কর্মসূচী পালন করেন। এ সময় ঘন্টা ব্যাপী ওই মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট।
গত রবিবার সকালে গাজিরচট এ এম স্কুল এন্ড কলেজের ৫.১৬ একর জমি মহিলা অধিদপ্তরের সাভার উপজেলা কর্মকর্তা খালেদা পারভীনকে বুঝিয়ে দেন আশুলিয়া সার্কেলের ভুমিসহকারী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহাদ পারভেজ বসুনীয়া। খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এনামুল মুন্সী স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাধা দেন। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহাদ পারভেজ বসুনীয়া জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরকে খাস খতিয়ানের জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সাভার উপজেলা কর্র্মকর্তা খালেদা আক্তার জাহান জানান, জমিটি গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকদের কলোনী তৈরির জন্য প্রতিকী মূল্যে ভূমি মন্ত্রণালয় দান করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে। এর প্রেক্ষিতে গত রোববার জেলা প্রশাসক জমিটি বুঝিয়ে দেন তাদের। জমি বুঝে পাওয়ার পর সেখানে একটি সাইনবোর্ডও লাগান তারা। কিন্তু পরবর্তীতে সাইনবোর্ডটি তুলে ফেলায় অধ্যক্ষও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এনামুল হক মুন্সী বলেন, সিএস রেকডীয় জমির মালিক শ্রী কালি প্রসন্ন রায় ১৯৫৭ সালে গাজিরচট এ এম স্কুলকে বাইপাইল মৌজার সিএস-৩৮ নং খতিয়ানভুক্ত ৩৬২, ৩৬৩, ৩৬৬ ও ৩৬৭ নং দাগের ৫.১৬ একর জমি দান করেন। পরবর্তীতে এসএ-১২৭ ও আরএস-১৭৮ নং খতিয়ানে এসএ-৩৬২, ৩৬৩, ৩৬৬ ও ৩৬৭, আরএস-৯২৫, ৯২৬ নং দাগে ৫.১৬ একর জমি বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ওই জমির মালিক হিসাবে ভোগদখল করে আসছে। বর্তমান বিএস জরিপেও জমিটি বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্তসহ সরকারের কোষাঘারে হাল সন পর্যন্ত খাজনা প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের জমিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আবাসনের জন্য বহুতল ভবন নির্মানের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে এর শিক্ষাকার্যক্রমে প্রভাব ফেলার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, স্কুলের জমি রক্ষার্থে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বর্তমানে গাজিরচট স্কুলটিতে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা খোলায় ওই জমিটিতেই কলেজ ভবনসহ শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবুল ফজল মীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, ওই তপসীলভুক্ত জমিতে সরকারের মালিকানাধীন ১.৭৭ একর জমি রয়েছে। সরকারী জমিতেই নির্মান করা হবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আবাসনে বহুতল ভবন। তবে তদন্ত করে সরকারের জমিটি বের করা হবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের জমি রক্ষায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এনামুল হক মুন্সী। শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ শাহাদাত হোসেন খান। এসময় তিনি গাজীরচট স্কুল এন্ড কলেজের জমি রক্ষায় আরো বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, অযোগ্য ভুমিসহকারী কর্মকর্তা, এডিসি ও সাভার উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ভুল ব্যাখা দিয়ে বিদ্যালয়ের জমিটিতে পোশাক শ্রমিকদের আবাসন নির্মানের পায়তারা করছেন। বিদ্যালয়ের জমি ব্যাতিত অন্য কোন খাস জমিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

