নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াতের ডাকা ২৪ ঘণ্টা হরতালে জনজীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। রাজধানীর জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। সকালের দিকে যানচলাচল কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সব রুটে যানবাহন চলছে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অফিস, আদালত সরকারি-বেসরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান যথারীতি খুলেছে। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে। বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনমুখী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন পর্যন্ত স্থানে ছিল যানজট। দুপুরের পর থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস-টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কিছু বাস চলাচল করছে। তবে যাত্রী সংখ্যা ছিল কম। পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় দূরপাল্লার বাস নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়ে গেছে।
এদিকে বুধবার ভোরে হরতালের শুরুর সময়ে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির রাজধানীর ১২টি স্পটে মিছিল করেছে।
রাজধানীর মৌচাক, হাতিরপুল, লালবাগের শেখ সাহেবের বাজার, বাসাবো, যাত্রাবাড়ী কলেজরোড, দনিয়া, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, তাজমহল রোড, উত্তরা, কাফরুল ও বনানীতে মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব এলাকায় অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট থানা ও ওয়ার্ডের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
ওই মিছিলের পর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের রাজপথে দেখা যায়নি। এই প্রতিবেদন লেখার সময় দেশের কোথাও কোনো নাশকতার খবর পাওয়া যায়নি। অপরদিকে হরতালে নাশকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পুলিশের অবস্থান রয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দানের প্রতিবাদে এবং মুজাহিদসহ কারাগারে আটক সকল নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা করে দলটি। বুধবার সকাল ৬টা থেকে হরতাল শুরু হয়েছে। চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণভাবে এই হরতাল কর্মসূচি পালনে দেশবাসীকে আহবান জানান জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ।

