ঢাকাTuesday , 16 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘পানি ভাগের নয়, ব্যবহারের চুক্তি প্রয়োজন’

Link Copied!

rizwanaনিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানি কুটনীতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরো পরিষ্কার ও জোরালো করা জরুরি মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) পানি অধিকার ফোরামের সহযোগিতায় এএলআরডি আয়োজিত  এক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
‘তিস্তাসহ আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অভ্যন্তরীণ নদী-জলাশয়-জলাধার দখল-দূষণ রোধে করণীয়’ শীর্ষক ওই সেমিনারে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও দেশের অভ্যন্তরীণ নদী-জলাশয়-জলাধারের দখল দূষণ রোধের অপরিহার্যতার ওপর দুটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ইনামুল হক এএলআরডির উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি।
প্রকৌশলী ইনামুল হক তার উপস্থাপনায় বলেন, ‘ভারত তিস্তা নদীর পানি সরিয়ে নেওয়ায় উত্তরবঙ্গে এক ভয়ানক পরিণতি হয়েছে। যেখানে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলের যোগান দেয় তিস্তা নদী। ভারত এভাবে অভিন্ন নদীগুলির ঐতিহাসিক প্রবাহ থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করে আমাদের জনজীবন, কৃষি ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত করে তুলছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি চুক্তিতে পানি প্রত্যাহার বা পানি সরানো বিষয়ক ধারাগুলি এই কনভেনশন অনুযায়ী সিদ্ধ নয়। কারণ ওই চুক্তির ফলে গঙ্গা অববাহিকায় বাংলাদেশের জনজীবন, প্রকৃতি ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়েছে। তিস্তার পানি চুক্তি বেলাতেও তাই হতে চলেছে বলা যায়।’
অন্যদিকে, এএলআরডি’র উপ-নিবাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি তার প্রবন্ধে বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক হলেও পানি নিয়ে আমরা একটা ক্রাইসিসের মধ্যে আছি। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মানুষের হস্তক্ষেপ পানি সম্পদের সর্বনাশ করছে। এ সর্বনাশ ঠেকাতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘ভারত পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, তিস্তা চুক্তি হলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পানি ভাগাভাগির চুক্তি হয় না- তা ব্যবহারে চুক্তি হতে পারে। বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘ সনদ ১৯৯৭ অবিলম্বে অনুস্বাক্ষর করা এবং আন্তর্জাতিক আদালতে নিজেদের দাবি তুলে ধরা। তাহলে হয়তো সমুদ্র বিজয়ের মতো আমরা সকল নদীর ন্যায্য হিস্যাও নিশ্চিত করতে পারবো।’
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার তার নির্লিপ্ত ভূমিকার জন্য এ সকল নদীর ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন দর্শন হলো নদী-পরিবেশ-প্রকৃতি ধ্বংস করা। এ ধরনের উন্নয়ন দর্শন থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
এলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, গবেষক ড. স্বপন আদনান।