স্পোর্টস ডেস্ক : অনেক দিন ধরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে রেকর্ডটা নিজের দখলে রেখেছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন। শনিবার ফতুল্লা টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ১৯ রান করে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তামিম ইকবাল। যদিও পাকিস্তানের বিপক্ষে গত সিরিজেই এই মাইফলক স্পর্শ করতে পারতেন তিনি। কিন্তু মাত্র ৬ রান দুরে আটকে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের এই ওপেনার।
শনিবার ভারতের বিপক্ষে ৭ রান করে বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে সবার ওপরে উঠে গেলেন তামিম। যদিও রেকর্ড হারিয়ে আক্ষেপ নেই হাবিবুল বাশারের। তিনি মনে করেন, যোগ্য একজনের কাছে রেকর্ডটি হারিয়েছেন তিনি। এ কারণেই তামিমের নামের পাশে অন্তত দশ হাজার রান দেখতে চান বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৮- সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট ছিল বাশারের শেষ টেস্ট ম্যাচ। এরপর ব্যাট-প্যাড যখন তুলে রেখেছিলেন। ওই সময়ই নামের পাশে লিখেছিলেন ৫০ টেস্টে ৩০২৬ রান। ঠিক তার সাত বছর পর সে রানটাই টপকালেন তামিম। চলতি বছরে গড়েছেন বাংলাদেশের পক্ষে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান (২০৬) ও সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির (সাতটি) রেকর্ডও।
জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবুল বাশার। তাই মাঠে থাকাটা তার এক প্রকারের দায়িত্বও। সেই দায়িত্বটা পালন করার জন্য শনিবার খুব সকালে ফতুল্লার খান সাজেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে এসে হাজির হন সুমন। মাঠে বসে নিজের রেকর্ডটি ভাঙতে দেখলেন তামিমের হাতে। ঠিক ওই সময়টা কেমন লেগেছিল? এ প্রসঙ্গে সুমন বলেন, ‘রেকর্ড তো একদিন না একদিন হাতছাড়া হতোই। আমার ভালো লাগছে যে তামিমের মত একজন আমার রেকর্ড ভেঙেছে। যোগ্য হাতেই উঠেছে রেকর্ড। তবে একটি বড় ইনিংস খেলে ওকে রেকর্ড উদযাপন করতে দেখলে আরও ভালো লাগত।’
শনিবার ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ভালো করতে না পারলেও তামিমের ব্যাট থেকে নিয়মিত বড় ইনিংস দেখতে চান বাশার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই না রেকর্ড গড়েই তামিম তৃপ্ত হোক। ওর সামর্থ্য আছে আরও অনেক অনেক দূর যাওয়ার। রেকর্ডটাকে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ারও ক্ষমতা আছে তার। ১০ হাজার রান অন্তত করতেই পারে তামিম। সেটা না পারলে আমি বরং হতাশই হব। শুধু তামিম নয়, এই দলের আরও কয়েকজনের সামর্থ্য আছে ১০ হাজার রান করার।’
তামিম ছাড়াও বর্তমান বাংলাদেশ দলে দুজন ক্রিকেটারের মধ্যে ভালো সম্ভাবনা দেখছেন হাবিবুল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মুমিনুল এবং সাকিব। মুমিনুল, আসলে ও তো খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। তাই এখনই বলা মুশকিল। তবে সাকিবের সম্ভাবনা আছে আশপাশে। কেউ না কেউ হয়তো ছাড়িয়ে যাবে। আর রেকর্ড তৈরি হয় ভাঙার জন্যই। ভালো খেলোয়াড় রেকর্ড গড়ে, ভালো খেলোয়াড়ই আবার সেটা ভাঙে। কাজেই এ নিয়ে বলার কিছু নেই। তামিম রেকর্ড করবে, অন্যরাও করবে। তবে আশা করি, তামিম যেন রেকর্ডটা ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাতে পারবে।’

