ঢাকাFriday , 12 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৬২

Link Copied!

shahidস্পোর্টস ডেস্ক : বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ বেলার খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সময়ের হিসাবে দিনের খেলা বাকি ছিল প্রায় ঘন্টা দেড়েক। তৃতীয় দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৬২। অশ্বিন ২ ও হরভজন ৭ রানে ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন। তৃতীয় দিন শেষ, তবে ভারত খেলেছে মাত্র ১০৩.৩ ওভার। বাকি দুই দিনে বৃষ্টি বাগড়া দিলে এই টেস্ট নিশ্চিত ড্রয়ের পথে হাঁটবে, তা সহজেই অনুমেয়।
দুই দফা বৃষ্টি শেষে বেলা ২টা ২২ মিনিটে খেলা শুরু হওয়ার পর দ্রুত তিন ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন সাকিব আল হাসান ও জুবায়ের হোসেন। সাকিব মুরালি বিজয় ও আজিঙ্কা রাহানেকে এবং জুবায়ের ফেরান হৃদ্ধিমান সাহাকে।
বৃষ্টির আশংকা আগ থেকেই ছিল। শুক্রবার সকাল থেকেই আকাশ বেশ পরিচ্ছন্ন থাকলেও লাঞ্চের পরপর বৃষ্টির আভাস আগে দিয়ে রেখেছিল আবহাওয়া অফিস। সেটাই বাস্তবে রূপ নেয়। লাঞ্চের বিরতির পর খেলা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে ১২টা ২৫ মিনিটে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। দ্রুত মাঠকর্মীরা মাঠে প্রবেশ করে কাভার দিয়ে পিচ ঢেকে দেন।
১২টা ৪০ মিনিটে খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে বিলম্ব হয়। ১২টা ৫০ মিনিটে বৃষ্টি কিছুটা থামার পর ফের আঘাত হানে। দুই দফা বৃষ্টির হানার কারণে লাঞ্চের পর নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর খেলা শুরু হয়।
১টা ৫০ মিনিটে খেলা শুরু হওয়ার পর ১৫ মিনিট পর ফের ফতুল্লায় বৃষ্টি হানা দেয়। ৩ উইকেটে ২৯৮ রান নিয়ে খেলতে নামা ভারত ৪.১ ওভারে ২৭ রান তোলার পর দ্বিতীয় দফা বৃষ্টির আঘাতে খেলা বন্ধ হয়।
এর আগে টেস্টের প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে মাত্র ৫৬ ওভারের খেলা মাঠে গড়ায়। বৃহস্পতিবার টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তো কোনো বলই মাঠে গড়ায়নি বৃষ্টির কারণে। ফলে এই টেস্টের ফলাফল ড্রয়ের দিকেই গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। কেননা, আগামী দুদিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টি শেষে ২টা ২২ মিনিটে খেলা শুরু হলে প্রথম ওভারেই মুরালি বিজয়কে সাজঘরের পথ দেখান সাকিব আল হাসান। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরে থাকা বল সুইপ করতে গিয়ে ফ্লাইট মিস করেন বিজয়। বল সরাসরি তার প্যাডে আঘাত হানলে লেগ বিফোরের আবেদন জানান বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা। আম্পায়ার সেই আবেদনের সাড়া দিতে দেরি করেননি।
আউট হওয়ার আগে ২৭২ বলে ১৫০ রানের নান্দনিক ইনিংস উপহার দেন মুরালি বিজয়। ১২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহয্যে তিনি এই রান সংগ্রহ করেন।
এর কিছুক্ষণ পর অসাধারণ এক গুগলিতে হৃদ্ধিমান সাহাকে পরাস্ত করেন জুবায়ের হোসেন। জুবায়েরের গুগলিতে হতভম্ব হয়ে বোল্ড হন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। বল সরাসরি মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত হানলে সাজঘরের পথ ধরেন হৃদ্ধিমান।
এক ওভার পর সাকিব আল হাসানের শর্ট পিচ বলে পুল করতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা আজিঙ্কা রাহানে। মাত্র ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
২টা ৫০ মিনিটে তৃতীয় দফা বৃষ্টি আঘাত হানলে ফের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। আম্পায়াররা ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর চা বিরতির ঘোষণা দেন। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় দিনের খেলা আর মাঠে গড়ায়নি।
সফরকারী ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। একের পর এক আঘাতে শেখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে সাজঘরের পথ দেখান সাকিব ও জুবায়ের হোসেন। এই দুজনের বোলিং নৈপূণ্যে ফতুল্লা স্টেডিয়ামে টাইগাররা গর্জন তোলে।
তবে চতুর্থ উইকেটে আজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন মুরালি বিজয়। এই দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে লাঞ্চের আগ পর্যন্ত দ্রুত রান তুলতে থাকা সফরকারীদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪০০’র কাছাকাছি চলে যায়। তবে আধ ঘণ্টা ব্যবধান তিন তিনজনকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করে টাইগাররা।
বিনা উইকেটে ২৩৯ রান নিয়ে শুক্রবার ব্যাটিংয়ে নামে দুই ভারতীয় ওপেনার শেখর ধাওয়ান ও মুরালি বিজয়। ধাওয়ান ১৫০ ও বিজয় ৮৯ রান নিয়ে খেলতে নামে। বাংলাদেশি পেসার মোহাম্মদ শহীদ দিনের প্রথম ওভার বোলিং শুরু করেন।
দিনের প্রথম আধ ঘণ্টার মধ্যেই সেঞ্চুরি তুলে নেন মুরালি বিজয়। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বিজয় ও ধাওয়ান। তবে সাকিব আল হাসান ডাবল সেঞ্চুরির পথে থাকা ধাওয়ানকে আউট করে টাইগার শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন। সাকিবের বল ডাউন দ্য ট্রাকে এসে খেলতে গিয়েছিলেন ধাওয়ান। বলের ফ্লাইট মিস করে ফ্লিক করতে গিয়ে সরাসরি বোলারের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন তিনি।
এক ওভারের ব্যবধানে ফের ভারতীয় শিবিরে আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। সাকিবের বলে কাভার দিয়ে বিগ শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন রোহিত শর্মা। বল স্পিন করে সরাসরি স্প্যাম্পে আঘাত হানলে সাজঘরের পথ ধরেন রোহিত।
এরপর ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি এসে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার চেষ্টা করেন। তবে জুবায়ের হোসেন তাকে আউট করে ফতুল্লায় লাল সবুজের দর্শকদের আনন্দে ভাসান। জুবায়েরের গুগলি বলে পরাস্ত হয়ে সরাসরি বোল্ড হন কোহলি। আগের বলে চার মারা ভারতীয় অধিনায়ক কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বলের ফ্লাইট মিস করে সাজঘরের পথ ধরেন।
তবে চতুর্থ উইকেটে রাহানে ও মুরালি বিজয় মিলে দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে রান পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান। সেখানে থেকে সাকিব ও জুবায়ের তিন তিনজন ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসান ৪টি এবং জুবায়ের হোসেন নেন ২টি উইকেট।