ঢাকাThursday , 11 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সীমান্তে মাদক ব্যবসা জমজমাট

Link Copied!

BSFমৌলভীবাজার প্রতিনিধি : সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাদক ব্যবসার জমজমাট মিশন জমে উঠেছে। দেশীয় বাংলা মদ ছাড়াও অবৈধভাবে পাচার হয়ে আসা ভারতীয় ফেনসিডিল ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ বেড়েছে।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিঠুলি ও রাজকী সীমান্ত দিয়ে দিয়ে অবাধে এ সকল মাদক দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই সাথে স্থানীয় ও বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট জুড়ী শহর ছাড়াও সাগরনাল-গাজীপুর এবং কাপনাপাহাড়-কুলাউড়া সড়ক দিয়ে এ সব মাদকদ্রব্য বাইরে পাচার করছে।
ফুলতলা সীমান্ত এলাকা ও জুড়ী শহরের বেশ কিছু প্রভাবশালীরা এই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি কয়েকজন নারীও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানা যায়। হাত বাড়ালেই মিলে যাওয়ায় নিম্নবিত্তদের সাথে পাল্লা দিয়ে মধ্য ও উচ্চবিত্ত অনেক পরিবারের যুবক ও কিশোররা মাদক সেবনে আসক্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি এ প্রবণতা আরও বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকসহ উপজেলার সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কেননা, উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানের ড্রেন, রাস্তার পার্শ্বে ও অন্যান্য স্থানে হরহামেশায় ফেনসিডিলের বোতল পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
জেলার জুড়ী উপজেলার ১৫/২০টি স্থায়ী ও ভাসমান স্পটে এসব মাদক বিক্রি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা শ্রমিকদের জন্য উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে লাইসেন্সধারী বাংলা মদের (পাট্টা) দোকান রয়েছে। কিন্তু চা শ্রমিকরা আগের চেয়ে এখন অনেক সচেতন হওয়ায় বয়স্ক লোকজন ছাড়া নতুন প্রজন্মের কেহ এখন মাদক সেবন করে না। এ অবস্থায় ক্রেতা কমে যাওয়ায় যেখানে মদের দোকান বন্ধ হয়ে যাবার কথা, কিন্তু সেখানে তাদের ব্যবসা হয়ে উঠেছে জমজমাট। কারণ বস্তির লোকজন এখন তাদের প্রধান খদ্দের। প্রতিদিনই দিবারাত্র এসব পাট্টা মদ খেয়ে রাস্তায় চলাচলকারী লোকদের উত্যক্ত করাসহ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছে এসব সৌখিন মাতালরা। এ রকম অসংখ্য ঘটনা লোকমুখে শোনা গেলেও জীবনের ভয়ে মুখ খোলেন না স্থানীয়রা।
সম্প্রতি জেলার কুলাউড়া ও জুড়ীতে বিজিবি ও পুলিশ যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, হুসকি, নাসির বিড়ি, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বেশ কিছু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যম জানানো হয়ে থাকে। কিন্তু যাদের মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করলে কিছুদিনের মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে তাদের জামিন হয়ে গেলে ফের চোরচালানে সক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু এ অবৈধ ব্যবসার সাথে প্রকৃত সিন্ডিকেটদের চিহ্নিত করতে পারেনি বলে স্থানীয় অভিযোগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এসব মাদক ব্যবসার বড় অপরাধীদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের বড় কর্তাদের হাত রয়েছে। তাই প্রতি মাসে তাদের কাছ থেকে একটি মাসোহারা পেয়ে তারা নিশ্চুপ থাকেন।
সম্প্রতি এ অভিযান সিথিল হয়ে যাওয়ায় মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যা হলেই উপজেলা শহরের রেল সংলগ্ন ব্রিজের নিচে বসে মাতাল হয়ে জুয়া খেলার চিত্রটি চোখে পড়ে। স্থানীয়রা থানায় তথ্য দিলে পুলিশ তাদের ধরতে কোনো অভিযান চালায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান স্থানীয় লোকজন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫২ ব্যাটালিয়নের সীমান্তবর্তী ফুলতলা ক্যাম্পের সুবেদার আবু তাহের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবির ফোর্স কম থাকায় অনেক সময় অস্ত্রধারী সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। সেক্ষেত্রে স্থানীয় থানার পুলিশের সহযোগিত নিতে হয় বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে বিজিবির মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল (৫২) ব্যাটেলিয়ানের লে. কর্নেল সরদার মোহাম্মদ রেজাউল হক মুঠোফোনে জানান, অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রকারের ভারতীয় মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধের জন্য কড়া নিরাপত্তা অব্যাহত আছে। এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রতিটি বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কামান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন।