ঢাকাTuesday , 9 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাস্থ্য সেবায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানে আস্থা নেই

Link Copied!

amuনিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদির সংখ্যা কম নয়। কিন্তু এসব দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে যে মানের সেবা দেয়া হচ্ছে, তার ওপর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেবা গ্রহীতারা আস্থা রাখতে পারছে না।
বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০১৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘অ্যাক্রেডিটেশন : স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় সহায়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
তিনি আরো বলেন, ‘দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা না রাখতে পারার ফলে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে। এটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য মোটেই সম্মানের বিষয় নয়।’
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গৃহীত নীতি ও কর্মসূচির ফলে জনগণের জীবন-মান দ্রুত উন্নত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মানুষের মাথাপিছু আয় ১৩১৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ফলে উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে।’
সাম্প্রতিককালের উদ্যোগ ‘অ্যাক্রেডিটেশন’ বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষাকৃত একটি নতুন ধারণা জানিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘২০১০ সালে স্থায়ী জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কাজ শুরু করার পর থেকে আমাদের দেশে এ ধারণা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। উন্নত দেশে অ্যাক্রেডিটেশন ধারণা অনেক আগ থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বিশ্বের সকল দেশেই অ্যাক্রেডিটেশন সনদ গ্রহণের গুরুত্ব বেড়েছে। বিএবি’র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের ফলে বাংলাদেশেও এ ধারা জোরদার হচ্ছে। এটি অব্যাহত রেখে বাংলাদেশি পণ্য সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারের অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমে সক্ষম হবে।’
তিনি বলেন, ‘এবারের বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবসে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুস্বাস্থ্য মানুষের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সুস্থ শরীর ও মন মানুষের কর্মচাঞ্চল্য বাড়ায়। এক্ষেত্রে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন এবং অ্যাক্রেডিটেড স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
সামাজিক সেবা নিশ্চিতের বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এতে স্বাস্থ্য ও সামাজিকখাতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে জনগণের সামর্থের মধ্যে মানসম্পন্ন সেবা দিতে পারে, সে লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান ও তাদের জনবলের গুণগতমান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন ধারণার প্রসার জরুরি। এটি করা গেলে, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গুণগতমানের প্রতিযোগিতা হবে।প্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোৎকৃষ্ট সেবা প্রদান করতে পারবে। জনগণও তাদের সেবার ওপর আস্থা রাখতে পারবে।’
হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বিদেশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবস্থাপনা, রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা, টেস্টিং রিপোর্টের গুণগতমান, মেডিক্যাল ডিভাইসের স্ট্যান্ডার্ডস, টেস্টিং ল্যাবরেটরির অবকাঠামো ও জনবলের মান ইত্যাদি বজায় রাখতে যেসব আন্তর্জাতিকমান বা আইএসও সার্টিফিকেশন অনুসরণ করে। আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই মান অনুসরণ করা উচিত। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো অ্যাক্রেডিটেড ইন্সপেকশন বডির কাছে থেকে সনদ গ্রহণ করতে হবে।’
মূল প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্য খাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। সব বিষয়ের উপর অ্যাক্রেডিটেশন সনদ নেয়া যাবে না। তবে পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পূর্বে পণ্যের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। মেডিকেল সামগ্রী যেসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে তাদের পণ্যগুলোর মান পর্যালোচনা করে অ্যাক্রিডিটেশন সনদ দেয়া হতে পারে। এতে কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান ভালো বা খারাপ সেটা সেবা গ্রহীতারা সহজেই বুঝতে পারবে।’ তাই গুণগত মানের বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
বিএবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে ডিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ ছাড়াও ব্যবসায়ী ও শিল্পমন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।