অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নারীদের অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞে যুক্ত করা না গেলে ক্রমবর্ধমান টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বাংলাদেশের নারীদের সামান্য অংশই স্বীকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান তিনি।
আতিউর রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাবলম্বী নারীরা তাদের সম্পদ সন্তানদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষায় ব্যয় করে; যা একটি উন্নত জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড আয়োজিত নারী উদ্যোক্তাদের জন্যে ঋণ প্রোডাক্ট ‘পূর্ণতা’ চালু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।
বৃহৎ পরিসরে নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সম্পৃক্ত করা, তাদের অর্থনৈতক সক্ষমতা বাড়ানো ও নারীর ক্ষমতায়নকে তরান্বিত করারও তাগিদ দেন তিনি।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ প্রোডাক্ট প্রচলনে নারী উদ্যোক্তাদের চাহিদা ও প্রয়োজন সম্পর্কে উদাসীন থাকে অভিযোগ করে গভর্নর বলেন, ‘বাজারে যেসব ঋণ প্রোডাক্ট রয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের উপযোগী নয়। উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ পণ্য উদ্ভাবন না করলে তা উদ্যোক্তারা গ্রহণ করবে না, এটাই স্বাভাবিক। তাই ঋণ পণ্য ডিজাইন ও উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের চাহিদা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে চেম্বার ও নারী উদ্যোক্তা অ্যাসোসিয়েশনগুলো ব্যাংকারদের সহায়তা করতে পারে।’
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি আহ্বান জানান, আপনারা গতানুগতিক ব্যাংকিং থেকে বেরিয়ে এসে আইডিএলসি ফাইনান্স লি. ও অন্য কয়েকটি এসএমই ফোকাসড ব্যাংকের মতো এসএমই ব্যাংকিং ও নারী উদ্যোক্তা ব্যাংকিং উন্নয়ন ও গবেষণা কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করুন। দেখবেন আপনাদের মুনাফা যেমন বাড়বে তেমনি উদ্যোক্তাদেরও সহজে ব্যাংকিং সেবা পাবার সুযোগ বাড়বে।
গভর্নর বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ ও সব অফিসে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট গঠন করেছি, যার মাধ্যমে সারাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও তাদের বিভিন্ন অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরূপ ইউনিট গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। নারী উদ্যোক্তারা এখন ব্যবসা নিয়ে গবেষণা করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের পদচারণা লক্ষ্যণীয়। নিত্য নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও বাজারজাত করে নিজেদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সমাজ গঠনে তারা এখন অনবদ্য ভূমিকা রাখছেন।’
নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণের একটি চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত বছর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৪৩ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যা ছিল আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এ বছর এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রথম তিন মাসে ২৫ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। এ ত্রৈমাসিকে ৮০ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা এসএমই ঋণ দেয়া হয়েছে। গত পাঁচ বছরে দুই লাখ বারো হাজার নারী উদ্যোক্তাকে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দেয়া হয়েছে।’
আইডিএলসি ফাইনান্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো আবুল কাসেম। এছাড়া নারী উদ্যোক্তা অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

