চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য টেন্ডার জমা পড়েছে তিনটি।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বন্দর ভবনে টেন্ডার বক্স খোলা হয়।
জানা গেছে, সাইফ পাওয়ার টেক লিমিডেট, এমএইচ চৌধুরী লিমিডেট ও এ এন্ড জে এন্টারপ্রাইজ এই তিনটি প্রতিষ্টান মিলে একটি টেন্ডার জমা দিয়েছে। এছাড়া মেসার্স বশির আহমেদ ডিস্ট্রিবিউটর ও সিটিএস লিমিটেড নামের দুইটি প্রতিষ্টান পৃথক দুইটি টেন্ডার জমা দিয়েছে। সবমিলিয়ে বন্দরের এনসিটির ৪ ও ৫ নম্বর বার্থ পরিচালনার কাজ পেতে দরপত্র জমা দিয়েছে মোট তিনটি প্রতিষ্টান।
তবে এবার বন্দরের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও নামকরা বার্থ অপারেটর প্রতিষ্টান সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে যৌথভাবে রয়েছে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের মালিকানাধীন মের্সাস এম এইচ চৌধুরী লিমিডেট ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী ৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর মালিকানাধীন এনজে ট্রেডার্স।
অন্যদিকে অংশগ্রহণকারী অপর দুই প্রতিষ্টানগুলো হচ্ছে- আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকার সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী মালিকানাধীন কনটেইনার অ্যান্ড টার্মিনাল সার্ভিসেস (সিটিএস) ও চট্টগ্রামের বার্থ অপারেটর বশির আহমেদ ডিস্ট্রিবিউটর।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, ‘এনসিটি ৪ ও ৫ নম্বর বার্থের জন্য আগ্রহী তিনটি প্রতিষ্টান টেন্ডার জমা দিয়েছে। আগামীকাল এনসিটি ২ ও ৩ নম্বর বার্থের জন্য টেন্ডার জমা নেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী আলোচিত বার্থ অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন বলেন, ‘নানা আইনি জটিলতা শেষে অবশেষে এনসিটির ৪ ও ৫ নম্বর বার্থ পরিচালনার জন্য আমরা টেন্ডার জমা দিয়েছি। এবার আমাদের সাথে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও নোয়াখালীর এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্টানও সহযোগি পার্টনার হিসেবে রয়েছে। সাইফ পাওয়ারটেক, এম এইচ চৌধুরী ও এনজে ট্রেডার্স যৌথভাবে এবার টেন্ডার জমা দিয়েছে।’
এম এইচ চৌধুরী লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘এবার এনসিটি পরিচালনায় সাইফ পাওয়ারটেক ও এনজে ট্রেডার্সের সাথে আমরা যৌথভাবে টেন্ডার জমা দিয়েছে। আগামীকাল এনসিটি ২ও ৩ নম্বর বার্থ পরিচালনায় আহ্বান করা টেন্ডারও যৌথভাবে জমা দেবো।’
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বন্দরের সবচেয়ে বড় এই টার্মিনালটি তৈরি হলেও নানা জটিলতায় সাত বছরেও পুরোদমে চালু করা যায়নি। এটা নির্মানে খরচ হয় প্রায় ৬শ কোটি টাকা। এর হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ টিইউস। এনসিটিতে অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হলেও শুরুতেই নানা জটিলতা, দরপত্র নিয়ে মামলার কারণে তা ঝুলে যায়। সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুসারে অন্তবর্তী দু’বছর তা পরিচালনার জন্য বর্তমান দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এরপর এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ গত ৩১ মে এক আদেশে এনসিটির দরপত্র ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন। রাজধানীর কাকরাইলের এইচআর ভবনের কন্টেইনার এন্ড টার্মিনাল সার্ভিসেস লিমিটেড এই রিট আবেদন পেশ করেন। রিট আবেদন নম্বর ৫৯৫৬,(২০১৫ ইং)। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি কাজী মোহাম্মদ এজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রুল জারি করেন।এনসিটির ২, ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর কন্টেইনার এবং কন্টেইনারজাত মাল হ্যান্ডলিং-এর জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গত ৪ মে আহূত দরপত্র বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য নতুনভাবে দরপত্র আহ্বান করা হবে না তার কারণ দর্শাতে বলা হয়।
সেই সঙ্গে আলোচ্য দরপত্রের যাবতীয় প্রক্রিয়ার উপর ৩ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট রমজান আলী সিকদার স্বাক্ষরিত এক লইয়ারস সার্টিফিকেটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিতাদেশ চেম্বার জজ গত ৪ জুন স্থগিত করেন এবং আগামী ১৪ জুন আপিলাত বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর দিন ধার্য করেন। এর ফলে দরপত্র কার্যক্রম অব্যাহত রাখে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে এনসিটি অন্তবর্তীকালীন পরিচালনার জন্য আহূত একটি দরপত্র ৯জুন খোলা হয়েছে। তবে ২ জুন আরেকটি দরপত্র খোলার কথা থাকলে তখন স্থগিতাদেশ না আসায় তা আর খোলা হয়নি।

