আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশে নারীর বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ থেকে ১৬তে কমিয়ে আনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় তৎপর সংগঠন হিউম্যান রাইচ ওয়াচ।
মঙ্গলবার ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানবাধিকার বিষয়ক সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্পর্কে উদ্বেগের কথা জানান বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের নবপ্রতিষ্ঠিত আইনের কারণে দেশটিতে বাল্যবিবাহ যে মহামারীর আকার ধারণ করতে যাচ্ছে এ বিষয়ে তারা প্রত্যেকেই নিঃসন্দেহ এবং পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণও তাদের কাছে রয়েছে।
নারীর বয়সের এ অবনমনের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে সরকারকে দ্বিতীয়বার ভাববার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইট ওয়াচ।
সংস্থাটি মনে করে এ নবগৃহীত নীতি প্রধানমন্ত্রীর বাল্যবিবাহ রোধের প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে দুই-তৃতীয়াংশ বিয়ে নারীর ক্ষেত্রে বাল্যকালেই সংঘটিতত হয়। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ নারীর বিয়ে হয় ১৫ বছর বয়েসের আগেই। আরও কম বয়সে বিয়ের নজিরও অসংখ্য।
এ পরিসংখ্যান বাংলাদেশকে বিশ্বের বাল্যবিবাহবহুল দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয়দের দলভুক্ত করেছে, যা দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
সভায় আলোচিত হয় বাংলাদেশের দুর্যোগপ্রবণতার বিষয়টি। দেশটির অধিকাংষ দরিদ্র মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আরও দারিদ্রের মুখোমুখি পড়ছে, যা থেকে পরিত্রাণের আশায় বাল্যবিবাহের দিকে ঝুঁকছে আশঙ্কাজনক হারে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত একই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সাল নাগাদ ১৫ বছর বয়েসী মেয়েদের বিয়ে রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ থেকে বাল্যবিবাহকে পুরোপুরি বিদায় জানানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।

