ঢাকাTuesday , 9 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বারডেমে আর কারাবন্দিদের চিকিৎসা নয়

Link Copied!

BIRDEMনিজস্ব প্রতিবেদক : কারাবন্দি অবস্থায় কোনো রোগী রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) চিকিৎসা নিতে পারবে না। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বন্দি অবস্থায় (আন্ডার কাস্টডি) কাউকে সেখানে ভর্তি না করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুধু তা-ই নয় এরই মধ্যে দেশের সব কারাগারে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বরাবর পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো বন্দির বিষয়ে যদি আদালত সুনির্দিষ্ট কোনো আদেশ দেন তাহলে তা পালন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
গত রোববার মন্ত্রণালয়ের কারা শাখা থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা কারা অধিদপ্তরে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বারডেম হাসপাতালে কারাবন্দিদের জন্য আলাদা ভবন বা ওয়ার্ড (প্রিজন্স অ্যানেক্স) না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় বন্দিদের এখানে ভর্তি করা হয়। এসব রোগীর সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকে পুলিশ। অনেক রোগীর মধ্যে এটি রোগীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে, অনেকে অস্বস্তিবোধ করেন। এ মর্মেই মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বারডেম কর্তৃপক্ষ। গত ২ মে হাসপাতালটির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিটি পাঠানো হয়।
এদিকে বারডেম হাসপাতালে কারাবন্দিদের ভর্তি করতে আদালতের একটি নির্দেশনাও রয়েছে। ফলে আদালত ও মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নির্দেশ বাস্তবায়নে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপাকে রয়েছে কারা অধিদপ্তর।
কারাসূত্র জানায়, কারাবন্দি অবস্থায় কাউকে চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে বারডেম হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু নিয়মানুযায়ী কোনো বন্দিকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হলে প্রিজন্স অ্যানেক্স প্রয়োজন। যা বারডেম হাসপাতালের নেই। ফলে প্রতিটি বন্দিকে কেবিনে রেখে চিকিৎসা দিতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এতে বন্দি রোগীদের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটে। অতীতে এমন অবস্থায় বন্দি রোগী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত ৭ জানুয়ারি অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পালিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে পুলিশ অবস্থানের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগীরা ভীত ও অস্বস্তিবোধ করেন। এজন্য তারা চিঠিটি পাঠিয়েছেন।
এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রিজন সেল রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে বন্দিদের উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর এখন থেকে কোনো কারাবন্দিকে বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পাঠানো যাবে না। এ নির্দেশের ফলে বর্তমানে বারডেম হাসপাতালে ভর্তিকৃত বন্দি রোগীদেরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে কারা তত্ত্বাবধানে বা অন্য যে কোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বারডেম থেকে সব রোগীকে কারাগারে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে আটক বেশ কিছু বন্দির ব্যাপারে বিভিন্ন সময় উচ্চ ও নিম্ন আদালত বারডেম হাসপাতালে রেখে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া আছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এসব বন্দির চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারা মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ মানবেন নাকি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মানবেন এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।
তবে কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বরাবরের মতো আদালতের নির্দেশকেই প্রাধান্য দেয়া হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী বলেন, ‘গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
তবে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, ‘চিঠিতে নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে চিকিৎসা নিতে কোনো বন্দিকে বারডেম হাসপাতালে পাঠানো যাবে না।’
তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বারডেম হাসপাতালে বন্দিকে রেখে চিকিৎসা রাখার নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে নাকি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কোনো বন্দিকে নতুন করে বারডেমে পাঠাবো না তবে আদালত কর্তৃক কোনো বন্দির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে বারডেমে রেখে চিকিৎসার কথা বলা হবে অবশ্যই তা পালন করা হবে।’
বন্দির সুচিকিৎসায় সমস্যা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএসএমএমইউ হাসপাতালসহ সরকারি অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকায় সেখানে রেখে বন্দির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হবে।’