আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শিশু অধিকার লঙ্ঘনাকারী দেশগুলোর জন্য তৈরি ‘লিস্ট অব শেম’ বা লজ্জার তালিকা থেকে ইসরায়েলকে বাদ দিয়েছে জাতিসংঘ। গত বছর গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের হামলায় ৫ শতাধিক শিশু নিহত হওয়ার পর আর্ন্তজাতিক সমালোচনার মুখেও সোমবার প্রকাশিত ওই তালিকায় মহাসচিব বান কি মুন ইসরায়েলকে রাখতে রাজি হননি।
গত বছর গাজায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের হামাসের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৬১ জন শিশু নিহত হয়। এদের মধ্যে ৫৫৭টিই ফিলিস্তিনের। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৪ হাজার ২শ ৭১ শিশু। শিশু ও সমর সংঘাত বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত লায়লা জারগৌ খসড়া প্রতিবেদনে ইসরায়েল ও হামাসকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বান কি মুন ইসরায়েলকে তালিকা থেকে বাদ দেন। তিনি গত বছরের তালিকাই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ‘লিস্ট অব শেম’ এ ইসরায়েলকে তালিকাভুক্ত না করলেও নরম ভাষায় দেশটিকে ‘তিরস্কার’ করেছেন মুন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞের যে প্রভাব পড়েছে তা অগ্রহণযোগ্য।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও অধিকারের প্রতি ইসরায়েলের আরও সম্মান দেখানো উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বক্তব্যে ফিলিস্তিনের গাজার শাসনকারী হামাসের সমালোচনা করেন মহাসচিব। গাজা থেকে ইসরায়েলে হামাসের ছোড়া রকেট ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে শিশুদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রতিবেদন ও আহ্বানের পরও মুন ইসরায়েলকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হননি। গত বছরের তালিকা বহাল রাখার পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এদিকে ইসরায়েলের পক্ষে জাতিসংঘের এ অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির প্রতিনিধি ফিলিপ বলোপিয়ন বলেন, ‘ ঘটনা ও সংগতি যা ধরা পড়েছিল সেগুলো তালিকায় সংযুক্ত করার প্রয়োজন ছিল। তবে দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবেরই বিজয় হয়েছে।’

