নিজস্ব প্রতিবেদক : কিশোরগঞ্জের পলাতক সৈয়দ হাসান আলীকে মানবতাবিরোধেী অপরাধের মামলার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারক এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। মোট দু’টি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া তিনটি অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আজ আদালতে হাসান আলীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ দেয়া আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্কুর আলী।
এর আগে আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক সৈয়দ মো. হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর মামলার রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ১২৫ পৃষ্ঠার এ রায় পড়ে শুনান। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান আজ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন। এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে মামলাটি গত ২০ এপ্রিল যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এ মামলায় হাসান আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
হাসান আলী ওরফে হাছেন দারোগার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো হলো:
অভিযোগ ১: একাত্তরের ২৭ এপ্রিল হাসান আলীর নির্দেশে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পূর্বপাড়ার হাছান আহমদ ওরফে হাচু ব্যাপারীর বসতবাড়ীর সাতটি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা। (প্রমাণ মেলেনি)
অভিযোগ ২: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৩ আগস্ট হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা তাড়াইল থানাধীন কোনা ভাওয়াল গ্রামের শহীদ তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া ওরফে লালু ভূঁইয়াকে হত্যা করে দুটি ঘরে লুটপাট চালায় এবং আরো দুজনকে অপহরণ ও আটক করে। (আমৃত্যু কারাদণ্ড)
অভিযোগ ৩: একাত্তরের ৯ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানার শিমুলহাটি গ্রামের পালপাড়ায় অক্রুর পালসহ ১২ জনকে হত্যা এবং ১০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে হাসান আলীর লোকজন। ওই গ্রামের পুরুষদের ধরে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয়। (মৃত্যুদণ্ড)
অভিযোগ ৪: একাত্তরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানাধীন ভোরগাঁও গ্রামের বেলংকা রোডে সতীশ ঘোষসহ ৮ জনকে হত্যা ও ১০ জনকে অপহরণ এবং ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুটপাটে নেতৃত্ব দেন হাসান আলী। (মৃত্যুদণ্ড)
অভিযোগ ৫: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৮ অক্টোবর তাড়াইল থানাধীন আড়াইউড়া গ্রামের কামিনী কুমার ঘোষের বসতবাড়ী থেকে কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন চক্রবর্তীকে অপহরণের পরে হত্যা এবং ছয়টি ঘরে লুটপাট চালায় হাসান আলীর লোকজন। (আমৃত্যু কারাদণ্ড)
অভিযোগ ৬: একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর হাসান আলীর নেতৃত্বে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাশিদ আলী ব্যাপারীকে হত্যা এবং ১০০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। (আমৃত্যু কারাদণ্ড)

